প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও দূরভিসন্ধিমূল– ছাত্র ইউনিয়ন

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে প্রশ্নত্তোর পর্বে প্রধানমন্ত্রীকর্তৃক কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেয়া বক্তব্য নেক্কারজনক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমনিতেই শিক্ষার্থীদের সাথে ছলনার আশ্রয় নিয়ে লক্ষ শিক্ষার্থীকে এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণ করেছেন একই সাথে প্রতারণা করেছেন। শিক্ষার্থীদের ১৫ টাকা হল ভাড়া ও ৩৮ টাকায় খাবার গ্রহণের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন। যেটি প্রজাতন্ত্রের প্রধান নির্বাহী হিসাবে জবাবদিহিতাহীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩০ টাকায় খাবার, কোথায় আছে পৃথিবীর? নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩০ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারের বাজার দর যা রয়েছে সেগুলো দিতে হবে তাদের।’ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন প্রধানমন্ত্রীর এহেন নেক্কারজনক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সংগঠনটির সভাপতি জিএম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার দৃষ্টিভঙ্গী, ক্ষমতাসীনদের বাণিজ্যিকিকরণের শিক্ষাদর্শন সম্পর্কে আমাদের সচেতন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয়ের যে চিত্র তুলে ধরেছেন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তদুপরি ক্ষমতাসীনদের বাজারমুখী শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাকে অধিকার হিসাবে না দেখে পণ্য হিসাবে বিবেচনা করার দৃষ্টিভঙ্গী প্রকট হয়েছে এই বক্তব্যর মাধ্যমে। রাষ্ট্রের শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সাংবিধানিক প্রতিজ্ঞা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সংবিধানের মৌলদর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানাই। একই সাথে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকিকরণের যে কোনো ষড়যন্ত্র শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে আগামীদিনে নস্যাৎ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এটি ভুলে যাওয়া সমিচীন হবে না যে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রজাতন্ত্রের ব্যয় নির্বাহ হয়, প্রধানমন্ত্রীর বেতন হয় একই সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থের যোগান হয়। কোনোভাবেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অর্থায়নের জন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিশেষ অনুকম্পার উপর নির্ভরশীল নয়। বরং জনগণের অর্থে রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬% (ইউনেস্কো সনদে প্রতিশ্রুত) বরাদ্দ না করে ধারাবাহিকভাবে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে সরকার।