বানারীপাড়ায় ঝুলন্ত ৪ লাশের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয়নি

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ বানারীপাড়ায় এক মাসের ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া ঝুলন্ত ৪ লাশের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে নূন্যতম জিঙ্গাসাবাদের জন্যও আটক পর্যন্ত করা হয়নি। শুধু লাশগুলো উদ্ধার করে ময়না তদন্ত ও অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে দায় সারা হয়েছে। গত ৫ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চাখার ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের মামা বাড়ি সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাগানের কাঁঠাল গাছে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় নবম শ্রেণীর ছাত্রী মীম আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪ জুলাই সন্ধ্যায় মীম আক্তার (১৫) তার মামা বাড়ির পার্শ্ববর্তী পারভেজ হোসেনের কোচিং সেন্টারে পড়তে যায়। রাত ৮ টার সময় তার শরীর খারাপ বলে শিক্ষকের কাছ থেকে ছুঁটি নিয়ে মামার বাড়ি আসতে পথিমধ্যে নিখোঁজ হন ।

পরের দিন কোচিং সেন্টারের অদূরে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ দিনের ব্যবধানে ঈদ-উল ফিতরের রাতে ১৬ জুন উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দিদিহার গ্রামে ফাতেমা (৩৪) নামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধু ও ১৭ জুন রাতে উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম লবনসাড়া গ্রাম থেকে সৈয়দ সজিব (২২) নামের এক যুবকের ও ২২ জুন উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সুশান্ত বিক্রম (১৯) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় । এদের পরিবারের দাবী সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে স্বামীর পরকিয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ফাতেমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেন ফাতেমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফাতেমার স্বামী দুই সন্তানের নামে তার সম্পত্তি লিখে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ফলে ধামাচাপা পড়ে যায় ফাতেমার অস্বাভাবিক মৃত্যু ।
সৈয়দ সজিবের পরিবারের দাবী স্থাণীয় এক আাওয়ামীলীগ নেতার পরকিয়া প্রেম দেখে ফেলা ও প্রেমিকার সঙ্গে ওই নেতার মুঠোফোনে কথপোকথনের অডিও রেকর্ডের মেমোরী কার্ড সৈয়দ সজিবের কাছে থাকায় তাকে সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে কাঠাল গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। কাঠাল গাছে ঝুলন্ত মাটির সঙ্গে হাটু ঘেরা অবস্থায় সজিবের লাশ উদ্ধার করা হয়।এ ব্যপারে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় সজিবের পরিবার। অব্যাহত হুমকির ফলে ওই পরিবার এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান জানান উদ্ধার হওয়া ৪ জনের লাশের মধ্যে সৈয়দ সজিবের মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে। তবে ৪ জনেরই ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে এ ব্যপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বানারীপাড়ায় একের পর এক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,মৃত্যু রহস্য উদঘাটন না হওয়া ও শিশু ধর্ষনের ফলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।