জবিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

67

অন্তু আহমেদ,জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “বাঙালি জাতির ইতিহাসে হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তা একদিকে যেমন মুক্তিয্দ্ধুকালীন সময়ে বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করতে সহায়তা করেছে, তেমনি আজও ঐসকল প্রতিবেদন ইতিহাসের অকাট্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় কারা পক্ষে, আর কারা বিপক্ষে ছিল তা আরো বিস্তারিতভাবে নতুন প্রজন্মদের মাঝে জানানো দরকার। ধর্মকে পুঁজি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধী শক্তিরা সুযোগ নিয়েছিল বা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। সে সকল অপশক্তিরা আজও ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চায়।” মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিকতার সোর্স হিসেবে প্রবন্ধটি নতুন প্রজন্ম ব্যবহার করতে পারবে বলে উপাচার্য এসময় মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের আগে ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার অবস্থা, বাংলার অর্থনীতি, বঞ্ছনা, যে বৈষম্য ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল- তখনকার সাংবাদিকেরা অনেক কষ্ট করে উপস্থাপন করেছিলেন। গণতন্ত্র, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’ গণ অভ্যুত্থান, ৭০’ নির্বাচন সবই কিছুতেই সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট, আর এসকল আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। সংবাদপত্রে যে অবিচ্ছিন্ন ধারা এবং ঐতিহাসিকভাবে সাংবাদিকরা যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

সেমিনারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ্ মোঃ নিসতার জাহান কবীর-এর সভাপতিত্বে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক হারুন হাবীব। প্রবন্ধের উপর আলোকপাত করেন দৈনিক সমাকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অবন্তী মেহতাজ এবং উপস্থাপনা করেন প্রভাষক মোঃ মিনহাজ উদ্দীন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।