এক বছরের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপিত হবে—মোস্তাফা জব্বার

8

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল ইউনিয়ন ডিজিটাল কানেকটিভিটির আওতায় আসবে এবং একই সময়ের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপিত হবে।
মন্ত্রী আজ ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ^বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার এক যুগ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃহত্তর মযমনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড .এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার প্রফেসর রফিকুল ইসলাম , বিশেষ অতিথি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ , দুদক সচিব শামসুল আরেফিন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান খান, চলচ্চিত্র ও টিভি ব্যক্তিত্ব মাহমুদ সাজ্জাদ, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মুন্না এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান শেলী অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
মন্ত্রী জাতীয় কবির স্মৃতি বিজরিত ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে বলেন, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি নির্ভর একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ৯০ এর দশকে কাজ শুরু করেছিলাম। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামসহ এই অঞ্চলের কৃতিব্যক্তিদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মন্ত্রী বাংলাদেশকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্বদানকারি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখ করে বলেন,স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী ধ্বংস স্তুপের উপর দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং তাঁরই প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করে। এর ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তিতে সংযুক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল এবং ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি বিগত সাড়ে ১৪ বছরে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি পৃথিবীর দেশে দেশে অনুকরণীয় কর্মসুচিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা ভিশন ২০২১ গত নয় বছরে বাংলাদেশের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। পৃথিবীর অনেক সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশকে অনুসরণ করে তাদের দেশকে নামের আগে বাংলাদেশের অনুকরণে ডিজিটাল দেশ ঘোষণা করেছে। ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার পিতৃভূমি কেনিয়ায়, কেনিয়াবাসীকে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরন করার আহবান জানান। ভিক্ষুকের জাতির অপবাদ খ্যাত ২০১৮ সালের বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উন্নয়নের প্রায় সকল সূচকে এগিয়ে আছে। ২০০৮ সালের মাত্র ৫৫০ ডলার মাথা পিছু আয়ের বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ১৭৫২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে ২০লাখ মানুষ ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারি ছিল সাড়ে ৪ কোটি। বর্তমানে সাড়ে ৮ কোটি ইন্টারনেট এবং ১৫ কোটি ৫০ লাখ মোবাইল ব্যবহার করছে। তিনি বলেন ২০০৮ সালে দেশে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো ১৭ জিবিপিএস ।মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬৫ভাগ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে কমিউনিকেশন্স দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আসন্ন ৫ জি ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযুক্ত শক্তি হিসেবে গড়ে উঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরির জন্য ডিজিটাল শিক্ষার বিকল্প হতে পারেনা। তিনি বলেন, শিক্ষার আমুল পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি গঠন করতে চাই, যে জাতি বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিবে।

মন্ত্রী বলেন. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে সম্ভাব্য সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সর্বাধুনিক রোবটিক ল্যাব স্থাপনের আশ্বাস ব্যক্ত করেন ।
এর আগে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আনন্দ র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিত করে। অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।