তরুণ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে বাংলাদেশ ইউরোপকেও ছাড়িয়ে যাবে—মোস্তাফা জব্বার

13

যুগবার্তা ডেস্কঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে তরুণ সমাজের সম্ভাবনাময় মেধাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করতে চলমান ডিজিটাল শিল্পবিপ্লব উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ,শিল্প বিপ্লব যুগের প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে গত সাড়ে নয় বছরে ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্বকারী দেশে উপনীত হয়ে বিস্ময়কর সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

মন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাসটিকার উত্তরা সিনিয়র শাখার ‘ও’ লেভেলের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫৪ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসমাপনী সনদ প্রদান করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর অনেকে বিদ্রুপ করেছে কিন্তু নতুন প্রজন্ম ব্যালট বিপ্লবে এর জবাব দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা ভিশন ২০২১ গত নয় বছরে বাংলাদেশের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। পৃথিবীর অনেক সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশকে অনুসরণ করে তাদের দেশকে নামের আগে বাংলাদেশের অনুকরণে ডিজিটাল দেশ ঘোষণা করেছে। ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার পিতৃভূমি কেনিয়ায়, কেনিয়াবাসীকে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরন করার আহবান জানান। ভিক্ষুকের জাতির অপবাদ খ্যাত ২০১৮ সালের বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উন্নয়নের প্রায় সকল সূচকে এগিয়ে আছে। ২০০৮ সালের মাত্র ৫৫০ ডলার মাথা পিছু আয়ের বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ১৭৫২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে ২০লাখ মানুষ ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারি ছিল সাড়ে ৪ কোটি। বর্তমানে সাড়ে ৮ কোটি ইন্টারনেট এবং ১৫ কোটি ৫০ লাখ মোবাইল ব্যবহার করছে। তিনি বলেন ২০০৮ সালে দেশে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো ১৭ জিবিপিএস । বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হচ্ছে। মহাকাশে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারি দেশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ায় তাঁর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশী সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬৫ভাগ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউরোপকেও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে কমিউনিকেশন্স দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আসন্ন ৫ জি ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযুক্ত শক্তি হিসেবে গড়ে উঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিজ সন্তানদেরকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিবাচক ভুমিকা গ্রহণে অভিভাবকদের প্রতি তাগিদ দেন। মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট হচ্ছে বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লাইব্রেরী, ভুল ধারণার বশবতি হয়ে সন্তানদেরকে কোনভাবেই এর ব্যবহার থেকে বিরত রাখা যাবে না। বরং প্রতিযোগিতামূলক বিশে^র উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরির জন্য ডিজিটাল শিক্ষার বিকল্প হতে পারেনা। তিনি বলেন, শিক্ষার আমুল পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি গঠন করতে চাই, যে জাতি বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিবে।

অনুষ্ঠানে স্কলাসটিকা উত্তরা সিনিয়র শাখার অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব: ) কায়সার আহমেদ বক্তৃতা করেন । মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।

পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।