বরিশালের ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

7

শামীমা সুলতানাঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর ৫৭ (২) ধারায় মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এবার জেলার গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরসহ স্থানীয় সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে থানায় মানহানিসহ চারটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের জব্দ করতে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে গৌরনদী মডেল থানায় নরসিংহলপট্টি গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে বাদি বানিয়ে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলোর স্থানীয় প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহির, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশ জনপদ পত্রিকা, বরিশালের কাগজ, আমাদের বরিশাল, দৈনিক সময়ের বার্তা, দৈনিক বরিশাল সময় ও দৈনিক সকালের বার্তার গৌরনদী প্রতিনিধিদের।
নাটকীয় মামলা দায়েরের ঘটনায় বরিশাল, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও কালকিনির সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগসহ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা এ ঘটনায় বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্রমতে, চাঁদশী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য কর্তৃক এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আটকে রাখার খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরে এবং সর্বত্র আলোচিত হয়। বিষয়টি জানার পরে গৌরনদীর কর্মরত স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই বাড়িতে যান। এ ঘটনায় বরিশাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের জব্দ করতে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে গত ১ জুলাই স্কুল ছাত্রীকে বাদি বানিয়ে গৌরনদী মডেল থানায় সাংবাদিক জহিরসহ সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়।
গৌরনদী মডেল থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি সাধারণ ডায়েরী হিসেবে নথিভূক্ত করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে নিয়মিত মামলা নেয়ার অনুমতি চেয়ে ওইদিনই জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পুলিশ হেড-কোয়ার্টারে প্রেরণ করেন। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর ৫৭ (২) ধারার বর্হিভুত হওয়ায় পুলিশ হেড-কোয়াটার থেকে অনুমতি দেয়া হয়নি।
সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি সময়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশের জেরধরে আমাকে জব্দ ও হয়রানী করতে প্রথমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাবিত করে তাকে দিয়ে আমাকেসহ সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৪৪৭, ৫০০, ৫০১ ও ৫০৯ ধারায় মিথ্যে অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করিয়েছেন।