রোহিঙ্গারা সবচেয়ে নির্যাতিত তারা বিচার চায় : জাতিসংঘ মহাসচিব

3

যুগবার্তা ডেস্কঃ জাতীসংঘের সংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, ঘর-বাড়ি, স্বজন ও দেশহারা রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত গোষ্ঠী। তারা বিচার চায়। নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে চায়। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখার পর জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও পালিয়ে আসার কাহিনী শোনেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফরের সময় তার সাথে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও।

জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের কয়েকটি ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গাদের দুঃখ-কষ্ট দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে। এসব ক্যাম্পের অবস্থা এক ট্র্যাজিক ঘটনা। ছোট ছোট রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে আমার নাতি নাতনিদের কথা মনে পড়ে গেছে। তাদের অবস্থাও যদি এমন হতো তাহলে কি রকম হতো! তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে হুমকিতে থাকা দুই লাখ রোহিঙ্গাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া জরুরি।

জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য তারা কাজ করছেন। তবে তিনি বলেন, তাদের ফিরে যাওয়া শুধু সেখানে অবকাঠামো তৈরির বিষয় নয়। তারা যাতে সম্মানের সাথে ফিরে যেতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এই অবস্থা এভাবে চলতে পারে না। এর একটা সমাধান হতে হবে। এছাড়া এক টুইট বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হত্যা আর ধর্ষণের যে বিবরণ আমি শুনেছি তা অকল্পনীয়। এই দুর্দশার কথা আমার সারা জীবন মনে থাকবে।

সোমবার বিকেলে কুতুপালং ডি-৫ ব্লকে এই প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিঃস্ব। তাদেরকে বিশ্ব ব্যাংক থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা এখানে যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক সাহায্য করবে। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থেকে রোহিঙ্গারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে তার জন্য কাজ করছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মোরার, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডি ঘুমধুমের টিভি রিলে কেন্দ্র এলাকায় রেড ক্রিসেন্ট পরিচালিত এক্সটেনশন ৪ নিবন্ধিত সি ব্লকে পৌঁছেন। সেখানে তারা ২০ জন নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী ও ২০ জন নির্যাতিত পুরুষের সাথে কথা বলেন। পরে প্রতিনিধি দল ট্রানজিট ক্যাম্প ৪, কুতুপালং ক্যাম্প ১ এর আইওএম পরিচালিত নারী বান্ধব কেন্দ্র ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেবার মান ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে গত আগস্টের পর থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে এর আগে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে জাতিগত নিধন অভিযান হিসেবে। বিশ্বব্যাংকও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখাশোনা করার জন্যে গত সপ্তাহে ৪৮ কোটি ডলারের একটি অনুদানের কথা ঘোষণা করেছে।-ইত্তেফাক