শিক্ষকদের মাসিক বেতন প্রাপ্তির দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ শিক্ষকদের মাসিক বেতন প্রাপ্তির দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট জনেরা।

তারা রোববার এক যৌত বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি এমপিও ভুক্তির দাবিতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকরা বাজেট ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন করছেন। পরিষ্কার করে বাজেটে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে বরাদ্দ নেই বিধায় এবং যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে তাতে সরকারের পূর্ব ঘোষিত ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যারা পূর্বেই শিক্ষান্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি নিয়ে আশায় বসেছিলেন তারা নতুন করে সম্প্রতি জারিকৃত ‘জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও নীতিমালা-২০১৮’-র নির্দেশনায় চরমভাবে হতাশ হয়েছেন।

আমরা মনে করি সরকার যদি ইতোপূর্বে এইসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন তাহলে নতুন করে এই জনবল কাঠামোর মধ্যে এইসকল প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে তাদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। ‘৬ বছর বেতন দেবোনা’ অঙ্গীকার করে ২০ বছর পর্যন্ত বেতন না দেয়ার চাতুর্যকে আমরা কোনভাবেই সমর্থন করতে পারিনা। শিক্ষকদের সম্মান না দিয়ে তাদের মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে শিক্ষকগন কখনোই সফল হয়না। ফলস্বরুপ ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে জাতি ব্যর্থ হবে। দেশের জনগণকে শিক্ষিত করা রাষ্ট্রীয় নীতি- এমপিওভুক্তির দাবিদার শিক্ষরা রাষ্ট্রের সেই নীতি বাস্তবায়নের কাজই করে যাচ্ছেন। তাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনের সনদও যেমন গ্রহণ করছে, রাষ্ট্রও তা স্বীকৃতি দিচ্ছে। সরকার কৌশলে শিক্ষদের বেতনের বাইরে কিছুতেই রাখতে পারে না। ১৯৯৪ সালেও এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার জন্য তখনও শিক্ষকরা ধর্মঘট করে অনশনে গিয়েছিলেন। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনশনকারী শিক্ষকদের নিজ হাতে সরবত খাইয়ে ওয়াদা করেছিলেন এই বলে যে, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের আর কোনো সময়ে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে হবে না।’ অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো বারে বারেই এইসব শিক্ষকদের বেতনের দাবিতেই আন্দোলন করতে হচ্ছে।
ঈদের পূর্ব থেকে পুলিশের নির্যাতন সহ্য করে তারা আন্দোলন করছেন। ২৩ জুন থেকে অনশন এবং ২৫ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। তারা সবাই এখন স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছেন। তাদের কেউ কেউ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবাই অবস্থান করছেন খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে। জাতির জন্য এটি যেমন কলংকের তেমনি বেদনারও। আমরা অনতিবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিদাতারা হলেন অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী( এমেরিটাস অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
,অধ্যাপক ড. অজয় কুমার রায়( সাবেক অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক( কথাশিল্পী, সাবেক অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
,অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম( লেখক, সাবেক অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
,অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ( সাবেক অধ্যাপক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, সভাপতি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
,অধ্যাপক যতীন সরকার( সাহিত্যিক, কলাম লেখক, সাবেক অধ্যাপক নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহ
, মামুনুর রশীদ( নাট্যকর্মী), অধ্যাপক কাজী মদিনা ( সাবেক অধ্যাপক সরকারি কলেজ, সংস্কৃতি কর্মী)
, অধ্যাপক এ. এন. রাশেদা (সম্পাদক শিক্ষাবার্তা, সাবেক অধ্যাপক নটর ডেম কলেজ), অধ্যাপক এম এম আকাশ ( অর্থনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক বদিউর রহমান ( সাবেক অধ্যাপক সরকারি কলেজ, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী), শংকর সাঁওজাল ( সংস্কৃতি কর্মী), জামশেদ আনোয়ার তপন ( সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী), সঙ্গীতা ইমাম ( শিক্ষকতা ভিকারুননিসা স্কুল ও কালেজ, সংস্কৃতি কর্মী)