বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: উদ্বিগ্ন রাজধানীবাসী

3

যুগবার্তা ডেস্ক: রাজধানীতে শুরু হয়েছে ডেঙ্গুর উপদ্রব। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। চলতি বছর মৌসুমের আগেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা খুঁজে পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এক অভিযানে ১৮টি বাড়ির মধ্যে ১১টিতেই এডিস মশার লার্ভা পান তারা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনেও একই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত মোট ১৫৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। বেসরকারী হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রাজধানীতে সারাবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ। এখন আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার নির্ধারিত মৌসুম নেই। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিন্তামুক্ত থাকতে পারছে না নগরবাসী। বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানী ঢাকায় বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এ সময়কে ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম ধরা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আগাম বৃষ্টি হওয়ায় মশার উপদ্রবও বাড়ে আগে আগে। তারপর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিনś স্থানে পানি জমে থাকছে। আর এসব স্থানেই বংশবিস্তার করে এডিস মশা। বর্ষা মৌসুম এডিস মশার বিস্তার ও প্রজননের সবচেয়ে অনুকুল সময়। ফলে ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ও বিভিনś এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। নগরীর সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে অনেক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। সারাদেশের ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক সংখ্যা জানে না সরকার। কিন্তু হাসপাতাল-ক্লিনিক ছাড়াও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেঙ্গু রোগীর আগমন বেড়েছে।
রাজধানীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে এডিস মশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ড্রেন, নর্দমার ময়লা নিয়মিত পরিস্কার না করা এবং মশক নিধন কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের ঢিলামিকেই এজন্য দায়ী করছেন তারা। এদিকে সিটি কর্পোরেশন বলছে, অতি শিগগিরই মশক নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর কথা বলে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হলেও সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে ওঠেনি। কয়েল, মশারি, ওষুধ ও ইলেকট্রিক ব্যাট কোনো কিছুতেই মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে জানান নগরবাসী। সিটি কর্পোরেশন বলছে, রাজধানীর মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন তারা। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, মশার উৎপাত বৃদ্ধি পেলেও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কেউ এগিয়ে আসছে না তাদের পাশে। অথচ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে মশক নিধনকর্মী রয়েছে ৬শ ৩৮ জন। উড়ন্ত মশা মারার জন্য ফগার মেশিন রয়েছে ৫০০টি। আর এগুলো পরিচালনার জন্য রয়েছে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়।
বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম চালু নেই। পানি মেশানো ওষুধ ছিটানোর মাধ্যমেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছে ডিসিসি। মশক নিধন কার্যক্রমের বরাদ্দ নিয়ে লুটপাটের খেলা চলে। বাড়তি টাকা না দিলে কোন বাসা বা এলাকায় ওষুধ ছিটান না ডিসিসির কর্মীরা। ডিসিসির এই বিভাগের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোন যোগাযোগ থাকে না। ডিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে এ কার্যক্রম চালিত হয়ে থাকে। স্বাভাবিক মশক নিধন কার্যক্রম ও ডেক্সগু প্রতিরোধ কার্যক্রমের মধ্যে তারা কোন পার্থক্য দেখেন না। ফলে এডিস মশা নিধনে তারা বিশেষ সফলতা পান না। আর ডিসিসির অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার দায়ভার গিয়ে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওপর বলে অভিযোগ করেছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা।