হিট স্ট্রোকে করণীয়

9

ড: সঞ্চীতা বর্মণঃ কোনো কারণে দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শারীরিক কিছু লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথে স্নায়ুতন্ত্রের কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। সংক্ষেপে একে হিট স্ট্রোক বলে। গরমের দিনে প্রচণ্ড রোদে অফিস আদালত বা স্কুল কলেজে যাবার পথে কিংবা হাট-বাজারে ও বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাস্তার পাশে গাছপালা কম, পথ চলতে চলতে হঠাৎ করে নিজে বা অন্য কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি খুবই জরুরি অবস্থা এবং তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরি।

হিট স্ট্রোক মূলত দুই ধরনের-ক্ল্যাসিকাল হিট স্ট্রোক এবং এক্সারসাইজ ইনডিউস্ড বা শরীরচর্চা/পরিশ্রম জনিত হিট স্ট্রোক। কিছু লক্ষণ যেমন-শরীরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া (১০৪(-১০৬( ফারেনহাইট অথবা তার বেশি), ঘাম না হওয়ায় গায়ের ত্বক তপ্ত, শুষ্ক ও লাল হয়ে ওঠা, নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ করা, দৃষ্টিভ্রম হওয়া, বিভ্রান্তি বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার সৃষ্টি হওয়া, উত্তেজিত বা অস্থিরভাব, খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া, চোখের তারারন্ধ্র সংকুচিত হয়ে আসা ইত্যাদি হিট স্ট্রোক হলে দেখা যায়।

এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠাণ্ডা স্থানে নিয়ে আসতে হবে। রোগীকে চিত করে শুইয়ে পা ও নিতম্ব উঁচু করে দিতে হবে। যথাসম্ভব শরীরের কাপড় ঢিলা করে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হবে অথবা বড় তোয়ালে দিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে সমস্ত শরীর স্পঞ্জ করতে হবে যতক্ষণ না তাপমাত্রা ১০১( থেকে ১০২( ডিগ্রি ফারেন হাইট না হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘন ঘন পানি ও তরল খাবার দিতে হবে।

যারা গরমে অতিরিক্ত ঘামেন, বাইরে বেশিক্ষণ থাকেন বা গরম পরিবেশে ভারী কাজ করেন, তাদের হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই একটু সচেতনতা থাকলেই গরমে এই বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ