রাতজাগা মানুষের বুদ্ধি বেশি!

15

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাতের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত মাদকতা। রাত হলো সেই ক্ষণ, যখন মানুষের আকাঙ্ক্ষাগুলোর আসল চেহারা প্রকাশ পায়। দিনের আলোয় লুকিয়ে থাকা তাৎক্ষণিক অপূর্ণতা আর অতৃপ্তিগুলো প্রকাশিত হয় এই সময়ে। রাতে মানুষ দিনের সব ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে পারে আর সেজন্য আক্ষেপ করতে পারে। যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ঘৃণা করতে পারে। আবার বুকভাঙা কান্নায় বালিশ ভেজাতে পারে।

রাত হলো আবেগের, কল্পনার, রোমান্সের এবং সংকটের। রাত যা কিছুর দুয়ার খুলে দেয় দিনে সূর্যের কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায় তা কল্পনাও করা যায় না। খুব স্বাভাবিকভাবেই যারা রাত জাগে না, তারা রাতের আঁধারে মানসিক এবং আবেগী বিচিত্র পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায়। ‘সাইকোলজি টুডে’র মতে, বুদ্ধিমান মানুষ নিম্ন আইকিউধারী মানুষের তুলনায় বেশি রাত জাগে। আমেরিকান তরুণদের উপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে যারা বেশি বুদ্ধিমান তারা অন্যদের চেয়ে দেরিতে ঘুমাতে যায়। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সাতশি কানাজাওয়া ‘স্টাডি ম্যাগাজিন’-এ বলেন, মানুষের গড় আইকিউ এবং ঘুমের প্যাটার্নের মধ্যে এমন সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে যা প্রমাণ করে যারা রাতে কাজ করে তারা অধিক বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই আদিম মানুষেরা সূর্যের উদয় এবং প্রস্থানের সঙ্গে নিজেদের জীবন বিন্যস্ত করে নিয়েছিল। গড়পড়তা মস্তিষ্কগুলো এই প্যাটার্নকে নির্দ্বিধায় মেনে নেয়। কিন্তু কৌতূহলী এবং বুদ্ধিদীপ্তরা অন্ধ আনুগত্যের পরিবর্তে নিজেদের মতো করে নিয়ম তৈরি করে নেয়। এটি হলো অধিকাংশ মানুষের থেকে নিজেকে পৃথক করার, স্বকীয়তা সৃষ্টির এক অবচেতন উদ্যোগ।