দেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল কৃষি ও গ্রামীণ খাত এবারও বাজেটে উপেক্ষিত

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতসহ গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত কৃষক-ক্ষেতমজুর ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে রবিবার পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনে প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয় ও বাংলাদেশ কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির সভাপতি সাইফুল হক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রণ্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহাম্মেদ, বিপ্লবী কৃষক সংহতির সভাপতি আনছার আলী দুলাল, বাংলাদেশ কৃষক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি মমিনুর রহমান বিশাল, বাংলাদেশ কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমান, মোতালেব হোসেন, আরিফুল ইসলাম নাদিম, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রণ্টের দপ্তর সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য সজিব সরকার রতন, বিপ্লবী কৃষক সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য আলী দাদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ব্যয়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাগাড়ম্বরপূর্ণ, ফাঁকা ও প্রতারণামূলক। বাজেটের স্ফীতি দেখে বাজেট সম্পর্কে স্বপ্ন ও উল্লাস প্রকাশ করার কিছু নেই। সমাজের বিত্তবান, উচ্চশ্রেণি, ব্যাংকের মালিক, ঋণখেলাপী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির আনন্দ উৎসব দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এই বাজেট প্রধানত: আগেকার ধারাবাহিকতায় বিত্তবান সুবিধাভোগী ও লুটেরা গোষ্ঠীর জন্যই করা হয়েছে। এই ধরনের বাজেটের মধ্য দিয়ে ধনী ও লুটেরাদের হাতে আরো বেশি সহায়-সম্পদ কেন্দ্রীভুত হবে। ধনী-দরিদ্র্যের ˆবৈষম্য আরো বৃদ্ধি পাবে। ধন ˆবৈষম্য ও আয় ˆবষম্য আরো প্রসস্ত হয়ে শ্রেণি ˆবৈষম্যকে আরো প্রকট করে তুলবে। সমাজে জবাবদিহিতাহীন অবৈধ সম্পদ আরো বেড়ে যাবে। সম্পদের ন্যায্য ও সুসম বণ্টনের নীতির পরিবর্তে বাজেট প্রস্তাবনায় সমাজের মুষ্টিমেয় অংশের হাতে বিপুল সম্পদ তুলে দেবার আইনী ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার নিজেদের কৃষিবান্ধব হিসাবে দাবি করলেও বাজেট বরাদ্দে তার প্রতিফলন ঘটেনি। দেশের প্রধান উৎপাদনশীল খাত কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি এবারও উপেক্ষিত হয়েছে।