দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়ের ৩০ হাজার পাউন্ড মিললো দর্জি দোকানে

7

যুগবার্তা ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের একদল নির্মাণ শ্রমিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন লুকানো অর্থ উদ্ধার করেছে। চমকপ্রদ ব্যাপারটি হচ্ছে অর্থগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের পছন্দের দর্জির দোকানের পুরনো ভবন থেকে। এই দর্জির দোকান থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী ক্লেমেন্টিন দুইজনই কাপড় বানাতেন। – খবর সিএনএন এর।

উদ্ধারকারীরা এতো আগের ক্ষয়ে যাওয়া এবং ময়লা মাখানো ব্যাংকনোট দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সমুদ্রোপকূলবর্তী ব্রাইটন শহরের ওই পুরনো ভবনটির ফ্লোর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন ৩০ হাজার পাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ লাখ পাউন্ড বা ১৭ কোটি টাকা।
ব্রিটিশ এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানায়, স্থানীয় সাসেক্স পুলিশ বিপুল পরিমাণ এক এবং পাঁচ পাউন্ডের ব্যাংকনোট নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে যে জায়গা থেকে অর্থগুলো পাওয়া গেছে সেটার বর্তমান মালিকানা কার কাছে সে সম্পর্কে তাৎক্ষনিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই স্থানটিতে ১৯৩৬ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ব্র্যাডলি গাউন স্টোর নামক একটি দর্জির দোকান ছিল। ব্র্যাডলি গাউন স্টোর ১৮৬০ সাল থেকে লন্ডনের খ্যাতনামা কোট বানানোর দোকান ছিল।
হাওয়ার্ড ব্র্যাডলি হচ্ছে দোকানের মালিকের সর্বশেষ উত্তরাধিকার। তার সাথে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে সিএনএন এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম খুবই বিস্মিত হন। তবে অর্থটি যে দর্জির দোকান থেকে পাওয়া গেছে ১৯৩০ সালে সেই বিখ্যাত ব্র্যাডলি’র গ্রাহক ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল ও তার স্ত্রী। সেইসঙ্গে তৎকালীন বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী ব্রিজিত বারদো।

ব্র্যাডলি জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে এ অর্থগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি জানতেন না। তবে তিনি মনে করেন, এ অর্থগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওই ক্রান্তিকালীন সময়ে অন্য কেউও লুকিয়ে রাখতে পারে।
এর সাথে নাৎসিদের কোনও যোগাযোগ আছে কীনা সে সম্পর্কে ব্র্যাডলির কথোপকথন থেকে জানা যায়, তার পিতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই যুদ্ধে তাদের লন্ডনের বাসভবন একটি ভি ওয়ান বোমা দিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
তবে, তার পূর্বপুরুষদের কেউ কেউ ইহুদিও ছিলেন বলে জানান তিনি। নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য জরুরি সময়ের জন্য এ অর্থটি জমিয়েও রাখতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। তবে অর্থটি আসলেই কে এবং কেন লুকিয়ে রেখেছিল সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কিছু জানা যায়নি।-আমাদের সময়.কম