ভালো ফলনের কারণে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ চাল আমদানিতে সরকার আবার শুল্ক আরোপ হয়েছে। আগের বছরের মতো ২৮ শতাংশ শুল্ক বসেছে। ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিউটি (শুল্ক) কমানো যায় যেমন, তেমন বাড়ানোও যায়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এটা হয়। গত বছর আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আমাদের বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। আমরা জেনেছি ১০ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হয়েছিলো। এতে ধাপে ধাপে সরকার আরোপিত ২৮ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। আমরা আবার তা বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মন্ত্রী বলেন, এবার বোরোতে বা¤পার ফলন হয়েছে। অস্বাভাবিক ভালো ফলন হয়েছে। আমদানিও হয়েছে ঘাটতির চেয়ে ৮/১০ গুণ বেশি। তাই কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শুল্ক বসানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দরকার মতো আবার কমানো হবে। এটা সবাই করে। ভারতও তাদের ব্যাবসায়ীদের প্রয়োজনে আমাদের পাটপণ্যে শুল্ক বসিয়েছে। দেশে যেহেতু চালের চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ মজুদ বেশি, ফলনও বেশি হয়েছে, তাই শুল্ক বাড়ানোয় বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গত বছর হাওরে অকাল বন্যায় ব্যাপক ফসলহানী ও ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেশে মোটা চালের সĽট ˆতরি হয়। বেড়ে যায় চালের দাম। মোটা চাল বিক্রি হয় ৪৮-৫০ টাকায়। এই বাস্তবাতায় দুদফায় সরকার চাল আমদানির ওপর থেকে ২৮ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারীখাতে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। মূলত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এ বছর চালের উৎপাদন ও ফলন ভাল হয়েছে। কমেছে মোটা ও সব ধরনের চিকন চালের দাম। মোটা চাল বর্তমান ৩৮-৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। তবে এর সুফল কৃষক পাবে কিনা সেটা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। প্রতিবছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পায়না কখনো। বাজারে চালের দাম চড়া থাকলেও এক শ্রেণির সিন্ডিকেটের কারণে ভরা মৌসুমে ধানের দাম কমে যায়। আর কৃষক অর্থের অভাবে লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। চলতি বছরেও ধানে কৃষকের লোকসান হয়েছে কেজিপ্রতি ৯ টাকা। তাই শুল্ক আরোপ করা হলেও তার সুফল যেন কৃষক পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।