ঈদকে ঘিরে বেপরোয়া ফুটপাতের চাঁদাবাজরা

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঈদের চাঁদাবাজিতে দিশাহারা রাজধানীর ফুটপাতের হকাররা। ঈদ সামনে রেখে কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হবে শুধু ফুটপাত থেকেই। প্রতিদিন চাঁদা উঠছে লাখ লাখ টাকা। দিনের শুরুতেই সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে হয়। আর দিনে দুই দফায় চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় চাঁদার হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চাঁদা না দিলে দোকান বসতে দেয়া হবে না। সরাসরি হকারের পেটে লাথি পড়বে। সামান্য ফাঁকা জায়গায়ও মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে বসানো হয়েছে নতুন দোকান। হকারদের কারণে ফুটপাতে হাঁটার উপায় নেই সাধারণ মানুষের। সে দিকে কারো নজর দেয়ার সময় নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নীরব। তবে চাঁদাবাজির এসব অভিযোগ শুনতে নারাজ পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা যথারীতি পুরনো বুলি আউড়ে সোজা-সাপটাভাবে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ বা সন্ত্রাসী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
এদিকে সব শ্রেণির মানুষের কেনাকাটার স্থান হিসেবে পরিচিত রাজধানীর নিউমার্কেট, গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় ৩৪টি ফুটপাতের মধ্যে বেশির ভাগেরই রয়েছে সরকারদলীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের দখলে। নির্ধারিত লাইনম্যানদের মাধ্যমে এই এলাকার চাঁদা তোলা হয়। নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছে ৮টি ফুটপাত। এগুলোর মূল নিয়ন্ত্রক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। ঢাকা কলেজের এখানে এক মাসের জন্য চৌকিপ্রতি এককালীন সালামি দিতে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। প্রতিদিন লাইন খরচ বাবদ বাবদ ৫০ টাকা ও সপ্তাহে আলাদা চার্জ দিতে হয় ২০০ টাকা। প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের সামনে থেকে সানমুন টেইলার্সের কর্নার পর্যন্ত নতুন চৌকি বসাতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন লাইন খরচ ১০০ টাকা দিতে হয় একজন হকারকে। হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ফুটপাতে প্রায় ৫০ হাজার হকার ব্যবসা করেন। এরা সারাবছরই ফুটপাতে থাকেন। তবে রোজার ঈদের আগে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশিতে গিয়ে দাঁড়ায়। দেশের বিভিনś এলাকা থেকে ভালো ব্যবসার আশায় মৌসুমি হকাররা এসে রাজধানীতে এক মাসের জন্য অবস্থান নেন। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ফুটপাতে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে মৌচাক, মালিবাগ হয়ে কাকরাইল, তোপখানা রোড থেকে পল্টন, বায়তুল মোকাররম, ˆদনিক বাংলা, মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান, কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা, খিলগাঁও রেলগেট, মহাখালী রেল ক্রসিং থেকে বনানী, গুলিস্তান থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফুলবাড়ীয়া, জয়কালী মন্দির, বংশাল রোড, ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সদরঘাট, ইসলামপুর, মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে ব্রিজের নিচে, গুলিস্তান টিঅ্যান্ডটি অফিসের সামনে, সায়েদাবাদ রেলক্রসিং থেকে যাত্রাবাড়ী, মিরপুর গোলচক্কর থেকে মিরপুর ২ নাম্বার, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, মিরপুর ১ নাম্বার গোল চক্কর থেকে মাজার রোড পর্যন্ত শতাধিক ফুটপাতে রোজার এক মাসজুড়ে চলে হকারদের রাজত্ব। কিন্তু এই রাজত্বের মূল রাজা হচ্ছে চাঁদাবাজরা। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্র, শ্রমিকনেতা, নামধারী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় সন্ত্রাসী। নগরের ভাসমান ব্যবসায়ী (হকার) ও তাদের সংগঠনগুলো, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা সবাই বলছে, ফুটপাতে চাঁদাবাজি হচ্ছে। তবে এ জন্য তারা একে অন্যকে দায়ী করছে। হকার নেতারা বলছেন, লাইনম্যানের মাধ্যমে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে। পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের আড়াল করে আঙুল তুলছেন পুলিশের দিকে।