শিক্ষাখাতে স্বতন্ত্রভাবে জাতীয় বাজেটের ২৫% বরাদ্দ দাবি

6

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জাতীয় সংসদে দশম বারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সর্ববৃহৎ টাকার অংকে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে (২০১৮-১৯) অর্থবছরের জন্য। টাকার অংকে বাজেটের আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে এবারে মোট বাজেট ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যেখানে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছর এ বরাদ্দে পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ২২ হাজার ৪৫৬ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি, কারিগরি ও মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আমরা গণবিরোধী এই বাজেট প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যান করছি। প্রস্তাবিত বাজেটে নানা চটকদারী কথাবার্তা আঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লুণ্ঠিত করে ধনীক তোষণের নীতিকে আঁকড়ে ধরে মুষ্টিমেয় ধনীকের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বরাবরের মতোই সার্বজনীন শিক্ষার অধিকারের নীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ অথবা জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবি ছাত্র সমাজ দীর্ঘদিন করে আসছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে ছাত্র সমাজের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ করেছে সরকার, কিন্তু টাকার অংকে বাজেট বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটের তুলনায় এই খাতের বরাদ্দের অংশ কমানো হয়েছে। বিগত বছরে মোট বাজেটের ১৬.৪ ভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ১.৮ ভাগ কমে তা মোট বাজেটের ১৪.৬ ভাগ দাঁড়িয়েছে, যা স্পষ্টতই সার্বজনীন শিক্ষার অধিকারের প্রতি সরকারের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক সদৌচ্ছার অভাবকে সুস্পষ্ট করে। উপরোন্তু শুভংকরের ফাঁকি হচ্ছে, শিক্ষা খাতের সাথে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তি খাত, যা স্বতন্ত্রভাবে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পরিমাণকে আরো সংকুচিত করেছে। আমরা অবিলম্বে জনগণের সাথে প্রতারণা না করে গণমুখী বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাই।