আর্থ-সামাজিক বৈষম্য কমানো ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেই

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি জনাব শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল হক প্রধান এমপি এক যুক্ত বিবৃতিতে গতকাল জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কর্তৃক পেশকৃত বাজেট প্রস্তাবনার ওপর প্রাথমিক মন্তব্য প্রকাশ করে বলেছেন, ”প্রস্তাবিত বাজেটে ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং রকেটের গতিতে ঊর্ধমুখী দুর্নীতি-লুটপাট নিয়ন্ত্রণের কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নি। বরঞ্চ ’তেলা মাথায় তেল দেয়া’র নীতি অনুসরণ করে ব্যাংক মালিক ও ধনীদের আয়করের হার প্রভৃতিতে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রত্যক্ষ করের হার ও ক্ষেত্রে না বাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৃহৎ কর ফাঁকি রোধে আরো কার্যকর ব্যবস্থার দাবি না মেনে কালো টাকা সাদা করার কুব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী প্রতি বছর বাজেট বিকেন্দ্রীকরণে জেলা বাজেট চালু করার প্রতিশ্রæতি দেন, এবারেও সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ দেখা গেল না।”
নেতৃদ্বয় বলেন, ”তবে সর্বজনীন পেনসন চালুর প্রতিশ্রুতি, কৃষকের স্বার্থে চাল আমদানীর ওপর বর্ধিত কর, সিগারেট-বিড়ির ওপর বর্ধিত কর, ঔষধের কাঁচামাল আমদানি কর কমানো, ক্যান্সার ও কিডনী রোগের ঔষধের আমদনির মূসক রেয়াত, কম্পিউটার সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতির আমদানি কর কমানো, দেশি টায়ার-টিউব প্রস্তুতির কাঁচামালের আমদানি কর কমানো, প্রতিবন্ধী বান্ধব হাসপাতালের কর রেয়াত, পোল্ট্রি ফিডের উপকরণের আমদানি কর কমানো প্রভৃতি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ”বাংলাদেশের মত জনবহুল ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে বাজেটের আকার বড় হওয়ারই কথা। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের জন্য দক্ষতার ঘাটতি বিদায়ী বছরের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। যতটুকু বাজেট বাস্তবায়িত হয়, তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ দুর্নীতি-লুটপাটে চলে যায় বলে অভিযোগ আছে। কৃষকের স্বার্থে চাল আমদানিকে নিরুৎসাহিত করলেও খুচরা বাজারে চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন তথা মূল্য নিয়ন্ত্রণের সরকারী ব্যবস্থা না থাকায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি অব্যাহত আছে।
”সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০৩০ সাল। তা বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর স্বাস্থ্য বাজেট আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে জিডিপি’র ৫% ভাগ হওয়া উচিত, কিন্তু এখনো স্বাস্থ্য বাজেট জিডিপি’র ১%এর নীচেই ঘোরাফেরা করছে। এ বছর বাজেটের মোট আকার গত বছরের তুরনায় ২৫% বাড়লেও এবারের স্বাস্থ্য বাজেট মোট বাজেটের ৫.০৩%, অথচ যা ছিল গত বছর মোট বাজেটের ৫.৩৯%। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী প্রকাশ্যে বাজেট বরাদ্দের আনুপাতিক হার বাড়ানোর দাবি জানালেও তা আমলে নেয়া হয়নি। শিক্ষা বাজেট কিছুটা বাড়লেও তিন ধারার প্রাথমিক শিক্ষা একমুখী প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ না করার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য আরো বাড়বে, যা জাতীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তি নির্মাণে নেতিবাচক প্রভাব আরো বাড়াবে।”
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, ”সমতা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুসারে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট সংশোধন করবেন। তাহলে আগামী অর্থ বছরে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার পথে আরো একটু এগিয়ে যেতে পারবো।”