রাত ১০টার পর ট্রাফিক পুলিশ হাওয়া

16

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাত সাড়ে ১১টা। রাজধানীর গুলশানের ১ নম্বর সেকশনে তীব্র যানজট। চার রাস্তার সিগন্যালে চারদিক থেকে গাড়িগুলো আটকে আছে। এলোমেলোভাবে চলছে সব গাড়ি। এই যানজট ঠেলে সামনে এগিয়ে দেখা গেল সিগন্যালে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। এ কারণে যে যার মতো এক পাশ থেকে অন্য পাশে গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের বক্সে গিয়ে দেখা গেল সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছে কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই ফুটপাতে কাজ করছিলেন এই শ্রমিকরা। জাকির হোসেন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা তিন মাস এইখানে কাজ করি। ট্রাফিক পুলিশ স্যারেরা ১০টার পরেই চইলা যায়। ’

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত গুলশানের ১ নম্বরের মতোই শহরের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে ট্রাফিক পুলিশের দেখা পাওয়া যায়নি।

বনানী, কাকলি, জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় সরণি, খামারবাড়ী, মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর, কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা, বাংলামোটর, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান, টিকাটুলি ও শান্তিনগর এলাকার সিগন্যাল পয়েন্টগুলো ছিল ফাঁকা। একই চিত্র দেখা যায় আগের সোমবার রাতেও। এসব এলাকার মধ্যে যেখানে মার্কেট রয়েছে, সেখানে ঈদের কেনাকাটার কারণে মধ্যরাতেও তীব্র যানজট দেখা গেছে। বিশৃঙ্খলভাবে চলছিল যানবাহনগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল নগরবাসীকে।
ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে রাত ৮টা ও ১০টা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ থাকে। আর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাত ২টা পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মার্কেটের কাছে বিশেষ দায়িত্ব শুরু করা হবে বলে জানান তাঁরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১১টায় গুলশান ১ ও ২ নম্বর সেকশন এবং হাতিরঝিলের মুখে ট্রাফিক পুলিশ নেই। প্রতিটি সিগন্যালেই গাড়ি আটকে যাচ্ছে। ঈদের কেনাকাটার কারণে গুলশানের বেশ কিছু মার্কেট রাতে খোলা থাকত। এসব মার্কেটের কাছে অপরাধ বিভাগের পুলিশের টহল গাড়ি দেখা গেছে। তবে ট্রাফিক পুলিশ নেই কোথাও। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে পুলিশের একটি চেকপোস্ট দেখা গেছে। গুলশান ১ নম্বরে যানজটে পড়া প্রাইভেট কারের যাত্রী ইকবাল হাসান বলেন, ‘দিনে জ্যাম দেখে রাতে শপিং করতে বের হলাম। এখন তো দেখি রাতেও খারাপ অবস্থা। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রাফিক পয়েন্টে পুলিশ নেই। ’

মানিক মিয়া এভিনিউর আড়ং মোড় থেকে ২৭ নম্বর সিগন্যাল এলাকায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে তীব্র যানজট দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের সিগন্যালের তিন দিকে রাত ১২টার দিকে দীর্ঘ যানজট ছিল। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় গাড়িগুলো যে যার মতো যাচ্ছিল। মোড়ের কাছে ফুটপাতের দোকানদার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশের স্যাররা ১১টার সময়ই চইলা যায়। এরপর গ্যাঞ্জাম লাগে। এই কারণেই এত জ্যাম। ’ সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী রুবেল হোসেন ও মুনমুন বেগম মিরপুরের ১৪ নম্বর থেকে ইস্টার্ন প্লাজায় কেনাকাটা করতে যান। ফেরার পথে সার্ক ফোয়ারার সিগন্যালে তাঁরা আটকে ছিলেন প্রায় ২৫ মিনিট। রুবেল বলেন, ‘এ কী অবস্থা? ট্রাফিক গেল কই? কেউ কী নাই দেখার!’

রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বাংলামোটর, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান ও টিকাটুলি এলাকায় ঘুরে কোনো ট্রাফিক পুলিশের দেখা মেলেনি। তবে পথে অপরাধ বিভাগের পুলিশের টহল ও চেকপোস্ট দেখা গেছে। মালিবাগ থেকে শান্তিনগর এলাকায় মার্কেটের পাশে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই রাস্তায় গাড়ি চলাচলের। খেয়ালখুশি মতো রাস্তার মাঝখানে কেউ কেউ ইউটার্ন নিচ্ছে। রাত ১২টার দিকে প্রগতি সরনির কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নতুনবাজার রাস্তায় তীব্র যানজট ছিল। যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সিএনজি আটোরিকশার চালক আবু তালেব বলেন, ‘এখানে রাত ১০টার পরে ট্রাফিক পুলিশের লোক থাকে না। গাড়িগুলো মনমতো দাঁড়ায়। যমুনা ফিউচার পার্কের সিকিউরিটি আর বসুন্ধরার সিকিউরিটির লোকজন কিছুটা চেষ্টা করে। ’ রাত দেড়টার দিকে বনানীতে নৌবাহিনীর কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় অপরাধ বিভাগের পুলিশের একটি চেকপোস্ট বসানো দেখা গেছে। তাতে সেখানে চেক বা তল্লাশি করার জন্য কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তিন ধাপে ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্ব পালনের নিয়ম আছে। এর মধ্যে ভোর সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর আড়াইটা, দুপুর আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে ১০টা এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাড়ে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা রয়েছে। বনানীর কাকলি, গুলশান ১, গুলশান ২, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা, খামারবাড়ী এবং মানিক মিয়া এভিনিউর ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশ সদস্য থাকছেন না। উত্তরার বিমানবন্দর, মাসকট প্লাজা ও জসীমউদ্দীন সিগন্যালেও রাতে পুলিশ থাকছে না।

জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের পশ্চিম বিভাগের (রমনা-ধানমণ্ডি) উপকমিশনার (ডিসি) লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘সব পয়েন্টে রাতে পুলিশ না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালে ২টা পর্যন্ত থাকে। না থাকলে খতিয়ে দেখা হবে। মার্কেট এলাকায় ২২ রোজা থেকে আমাদের বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা শুরু হবে। ’

ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের (গুলশান-উত্তরা) ডিসি প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘এখনো তেমন প্রেসার মনে করছি না। তেমন প্রেসার হলে বেশি রাত পর্যন্ত থাকবে। তবে মার্কেটের কাছে আমাদের ব্যবস্থা আছে।-কালেরকন্ঠ ’