মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে “ক্রসফায়ার” সমাধান নয়

2

যুগবার্তা ডস্কেঃ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী আজ বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সমগ্র দেশ জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করে, মাদকের ভয়াবহতা নির্মূল করতে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করার দাবি জানিয়েছেন।
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামে চলমান বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে শতাধিক হত্যাকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক নির্মূলের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ (৩) ধারায় প্রত্যেক ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ও আইন দ্বারা গঠিত আদালতে দ্রুত ও প্রকাশ্যে বিচার লাভের অধিকারী হইবেন। মাদকবিরোধী যুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কিছু খুচরা মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হচ্ছে। এদের বিচারের আওতায় না এনে সংবিধান আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারকে লংঘন করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে মাদক চোরা চালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার হোতাদের কঠোর শাস্তির আওতায় না এনে কিছু চুনোপুটি মাদক বিক্রেতাকে হত্যা করে এই মারাত্মক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশে মাদকের প্রসার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক আজ দেশের প্রান্তিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এর ৮০ শতাংশ যুবক। শিশু ও নারীদের মধ্যেও মাদকাসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৪১ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করেছে। এতে সরকারি দলের সাংসদ, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দসহ সিআইপি খেতাবপ্রাপ্ত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সব পর্যায়ে এর ভয়াবহতা বিদ্যমান। এর পেছনে যে গডফাদাররা কাজ করছে তাদের কঠোর আইনের মাধ্যমে নির্মূল করতে হবে, অন্যদিকে যে সামাজিক অবক্ষয় মাদকের বিস্তার বাড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইতোমধ্যে মাদকাসক্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল মাত্র কিছু প্রান্তিক মাদক বিক্রেতাকে বিচার না করে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই শক্তিশালী করছে, তাতে মূল সমস্যার বিন্দুমাত্র উন্নতি হবে না।