সিলেটে হকাররা বেপরোয়া, ব্যবসায়ীদের আলটিমেটাম

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ সিলেট নগরের প্রধান সমস্যা ফুটপাত এবং সড়ক হকারদের অবৈধ দখলে চলে যাওয়া। সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং দিন দিন হকাররা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গত সোমবার উচ্ছেদের প্রতিবাদে নগর ভবনে হামলা চালিয়েছে হকাররা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটের ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।
গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরের বন্দরবাজারে হকারদের সড়কে না বসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকাররা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগর ভবনে হামলা চালায়। হকারদের হাতে করপোরেশনের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন। এমনকি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ওপরও হামলার চেষ্টা করে হকাররা। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হকারদের প্রতিহত করেন। এ ঘটনার পর হকাররা নগরের বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজারে তাণ্ডব চালায়।

তারা দোকানপাট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘পুরো নগরে ফুটপাত দখল করে রেখেছে হকাররা। এখন তারা সড়কের বেশির ভাগ দখল করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা বারবার অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযানের পরে আবারও তারা ফিরে আসে দখলদারিতে। তাদের কারণে ফুটপাত দিয়ে নগরবাসী চলাচল করতে পারছে না। তারা সড়ক দখল করে রাখায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। ’ হকারদের ‘খুঁটির জোর’ খুঁজে বের করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা, সিসিকের অভিযান—এত সবের পরও হকাররা বেপরোয়া হয় কী করে? তাদের পেছনে কারা আছে? তাদের খুঁটির জোর কোথায়?’

এদিকে নগর ভবনে হকারদের হামলা এবং সিসিক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালার সভাপতিত্বে ও ব্যবসায়ী নেতা নাজমুল হকের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল, সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ মো. মকন মিয়া, সিসিক কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, ফরহাদ চৌধুরী শামিম, আফতাব হোসেন খান, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম প্রমুখ।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, ‘যারা হকারদের শেল্টার দেয়, তারা নগরের পাঁচ লাখ মানুষের শত্রু। এদের চিহ্নিত করে তাদের সব কর্মকাণ্ড বয়কট করতে হবে। ’ তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন থেকে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। যারা হকারদের বসার স্থান দেবে; তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। চেম্বার সভাপতির এ ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসিন আহমদ, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ সমিতির সভাপতিসহ ও নগরের বিভিন্ন মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিং মলের ব্যবসায়ী নেতারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘নগর পিতার ওপর হামলাচেষ্টা মানে আমাদের ওপর হামলা। ’

সভায় সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী সিলেটের নাগরিকদের সম্মান জানিয়ে প্রশাসনকে জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান। প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে নগরের সব বিপণিবিতানে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন, বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে লিখিতভাবে ঘটনা অবহিতকরণ। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদে হামলার কারণে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমরা প্রচুর চেষ্টা করেছি, আদালতের নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি। ’ মেয়র আরো বলেন, ‘নগর ভবনে হামলার সময় আমি প্রশাসনকে অবহিত করি। কিন্তু তারা কোনো সহায়তা করেনি। প্রশাসন নির্বিকার ছিল। ’-কালেরকন্ঠ