বাড়ছে ব্যয়, বাড়ছে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ আসছে নতুন বাজেটে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে বাড়াতে হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের টার্গেটও। মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু কর বা রাজস্ব আদায় করা হবে কমবেশি ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এত টাকা করের বোঝা জনগণের কাঁধে দিলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, আমদানিতে অগ্রিম ভ্যাট বা এটিভি বাড়ানো হচ্ছে। ফলে, আমদানিনির্ভর পণ্য মূল্য বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিপুল অঙ্ক ব্যয় হচ্ছে। কখনো কখনো আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং তা পরিশোধ করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও চাপে পড়ে যায়। ইতোমধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা এক বছর আগেও ৭ বিলিয়ন ডলার ছিল। এ অবস্থায় আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বা ভ্যাটের হার বাড়ালে পণ্য মূল্য যৌক্তিক কারণেই বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
ভ্যাট ও শুল্কখাতে বেশকিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বাজেট। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নতুন বাজেটে নতুন কর আরোপ হবে না। তবে নতুন করে করারোপ না হলেও করের আওতা বৃদ্ধি তথা কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আর্থিক খাতে যে ভঙ্গুরতা রয়েছে তা সামাল দিয়ে ঘাটতি অর্থায়ন নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে, নতুন বাজেটে বৈদেশিক উত্স থেকে বেশি সহায়তা নেওয়ার প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে।
নতুন বছরের এডিপির বড় অংশই ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে। তাই বড় ব্যয় মোকাবেলায় অধিক হারে রাজস্ব আদায় প্রধান ভরসা। এরমধ্যেও কিছু খাতে প্রণোদনা দেওয়ার মনস্থির করেছে এনবিআর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া স্থানীয় শিল্পকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে তার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রসারের স্বার্থে শুল্ক ও অন্যান্য বিষয়ে বেশকিছু উদ্যোগ থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত হয়, এমন পণ্যের আমদানিকেও নিরুত্সাহিত করার উদ্যোগ থাকছে। কিছু বিলাসজাত দ্রব্য আমদানি নিরুত্সাহিত করার ঘোষণাও থাকছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প প্রসারের সুযোগ থাকবে বলে আশা করেন তিনি।
সূত্রমতে, মোটরসাইকেল, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন উত্পাদনে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি কিছু শিল্পের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হতে পারে। ফলে দেশে এ ধরনের শিল্পের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্টিল উত্পাদন, ওষুধ শিল্পের কিছু কাঁচামাল আমদানিও শুল্ক সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে কিছু কম প্রয়োজনীয় ও বিলাস দ্রব্যের আমদানি নিরুত্সাহিত করার উদ্যোগ থাকবে। রিকন্ডিশন্ড বা পুরনো গাড়ি আমদানির অবচয় সুবিধা কমতে পারে। এখাতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে যা এনবিআরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ক্রেতারা যদি সুবিধা না পায় তাহলে আমদানিকারকদের সুবিধা বাড়িয়ে সরকারের রাজস্ব হারানোর প্রয়োজন নেই বলে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন। হাইব্রিড গাড়িতে সুবিধা অক্ষুণ্ন থাকলেও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অবচয় সুবিধা কমছে।
ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে ই-কমার্স সেবায়। বিলাসদ্রব্য হিসাবে হেলিকপ্টার সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) আরোপ হতে পারে। ভ্যাটের স্তর কমানোর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার বাড়তে পারে। যা সংশ্লিষ্ট পণ্যমূল্যও বাড়াবে। ভ্যাট আদায় বাড়াতে হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসিআরের বদলে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস( ইএফডি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণাও থাকছে।-ইত্তেফাক