নারীর জন্য দরকার জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর উদ্যোগে ‘নারীর প্রতি অসমতা দূরীকরণের প্রশ্নে নীতি, আইন ও বাজেট’ শীর্ষক এক সেমিনার রবিবার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপ্রধানত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান।

ড. সালাহউদ্দিন বলেন, এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, নারীর অবস্থা ও অবস্থানের উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত নীতি ও বিধিবিধান প্রণীত হয়েছে। পাশাপাশি একই লক্ষ্যে প্রণীত অনেক আন্তর্জাতিক সনদ ও দলিলেও বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এসব নীতি ও দলিলের শর্তাদি বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত ও গৃহীত হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও রূপকল্প ২০২১। এসব নীতি বাসস্তবায়নের লক্ষ্যেই গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেটও ঘোষিত হয়েছে ও সে অনুযায়ী কার্যক্রম বাসস্তবায়িত হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু জেন্ডার বাজেটের আওতায় কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নারীর ক্ষমতায়নের অভীষ্টের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়; যেমন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যেখানে নারীর জন্য উঁচু বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নারীর জন্য বরাদ্দ যৎসামান্য।

উক্ত সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. প্রতিমা পাল-মজুমদার, বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিচার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নাজমা মোবারেক এবং পরিকল্পনা কমিশনের উপ-প্রধান প্রদীপ কুমার মহোত্তম।

সমাপনী বক্তব্যে রোকেয়া কবির বলেন, আমাদের দেশে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার দরুন নারীরা পিছিয়ে আছে। সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অবস্থান নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে অসমতা দ‚র করতে হলে নারীনীতি বাস্তবায়ন জরুরি। তা ছাড়া, উত্তরাধিকার আইনের বিষয়ে সুরাহা করা প্রয়োজন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নারীর প্রতি বৈষম্য দ‚রীকরণের জন্য রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকী নার্গিস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ফাতেমা আক্তার ডলি, কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি নাদেরা খানম, আজমল হোসেন, নাজনীন পাপ্পু, জিআইজেড প্রতিনিধি রিয়াজুল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের কর্মকর্তা হালিমা বেগম, হেলেন লুৎফুন্নেসা, চঞ্চনা চাকমা, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা প্রমুখ।