রাত জেগে টিকিট পেয়ে খুশির বন্যা

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ রমজানের ঈদের ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি রেলস্টেশনে। টিকিট পেতে আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাত থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিল টিকিটপ্রত্যাশীরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কেউ সকালে, কেউ বা দুপুরে টিকিট হাতে পেয়ে হাসিমুখে খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ফিরেছে।

ঢাকা বিমানবন্দর, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বড় রেলস্টেশনগুলো থেকে গতকাল আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন চাপ অনেকটাই কম ছিল। ঢাকার কমলাপুরে সার্ভার জটিলতার কারণে প্রথম দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে জায়গা দখল করেন শমসের আলী। ভিড় ঠেলে গতকাল দুপুরে টিকিট হাতে পেয়েই হাসিতে ভরিয়ে দেন চারপাশ। বললেন, ‘পাইছি। ’ ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার জন্য দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি টিকিট হাতে নিয়ে বড় কষ্টে ইনতাজ আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করে তবেই টিকিট পেয়েছেন। বড় কষ্ট হলেও টিকিট হাতে নিতে পেরে একটু পরই তাঁর খুশি খুশি ভাব প্রকাশ পায়। বললেন, ‘অনেক কষ্টের পর পাইছি।
’ তাঁর সঙ্গে আসা আত্মীয় রৌফ মিয়া বললেন, ‘দাঁড়িয়ে থেকেছি ১১ ঘণ্টা। বসলেই বিপদ, জায়গা দখল হয়ে যায়। ’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে টানা ছয় দিন ৩১টি আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১০ জুনের টিকিট। এদিনের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৩ হাজার ৫১৪ টিকিট। এর ৬৫ শতাংশ বিক্রির জন্য রাখা হয় কাউন্টারে। বাকি টিকিট রাখা হয় বিভিন্ন কোটায় বিক্রির জন্য। আজ শনিবার দেওয়া হবে ১১ জুনের টিকিট। টিকিট বিক্রির জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে ২৬টি কাউন্টার খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নারী টিকিটপ্রার্থীদের জন্য আছে দুটি কাউন্টার। গতকাল উত্তরের বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট বিক্রি হয়েছে বেশি। এবার বাসের মতো ট্রেনের টিকিটের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১৪ জুনের। এর আগের দিন ১৩ জুনের টিকিটের জন্যও থাকবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চাহিদা।

১৬ জুন ঈদ হতে পারে ধরে নিয়ে ছয় দিনের আগাম টিকিট ধাপে ধাপে বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই সূচি অনুসারে গতকাল বিক্রি হয় ১০ জুনের টিকিট। সকাল ৮টার পরিবর্তে সোয়া ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয় কমলাপুরে। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেতে আগের দিন সন্ধ্যা ও রাত থেকে স্টেশনের মেঝেতে কাগজ বিছিয়ে বসে, শুয়ে এবং দাঁড়িয়ে থাকে শত শত টিকিটপ্রার্থী। কেউ সাহরির পর গেলেও তার জায়গা হয় লাইনের একেবারে শেষে।

ঢাকা রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘আগের বছর স্বস্তিদায়ক ছিল ট্রেনে ঈদ যাত্রা। এবারও স্বস্তি দেওয়ার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে ট্রেনে বিশেষ বিশেষ গন্তব্যে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। কাউন্টারের বাইরে অনলাইনেও টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ’

চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট কিনতে পেরে অনেকেই খুশি। প্রথম দিনের আগাম টিকিট কিনতে নির্ধারিত কাউন্টারে যারাই দাঁড়িয়েছে তাদের প্রায় সবাই টিকিট পেয়েছে। তেমন ভিড় ছিল না।

চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেন পলাশ স্ত্রী সাদেয়া আফরোজ পুতুলকে নিয়ে ভোরে যান চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে। আগামী ১০ জুন ঢাকা যাওয়ার জন্য আন্ত নগর মহানগর গোধূলি ট্রেনের দুটি টিকিটের জন্য পুতুল মহিলাদের কাউন্টারে (এক নম্বর) এবং পলাশ ৫ নম্বর কাউন্টারে দাঁড়ান। চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হলে লাইনে এক নম্বরে দাঁড়ানো পুতুল দুটি টিকিট সংগ্রহ করেন। স্ত্রী টিকিট পেয়ে যাওয়ায় ৫ নম্বর কাউন্টারে দাঁড়ানো স্বামী আর টিকিট কেনেননি।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে গতকাল আগামী ১০ জুন ভ্রমণের জন্য আটটি আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে। ৮টার পর থেকে ১০টার দিকে লোকজন লাইনে ছিল। এর পর থেকে কাউন্টারগুলোতে ভিড় ছিল না। যারাই কাউন্টারে গেছে তাদের প্রায় সবাই টিকিট পেয়েছে। ১১টার পর থেকে কাউন্টার ছিল ফাঁকা ফাঁকা। এর মধ্যে একমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে দুপুর ২টার মধ্যে। এ ছাড়া আগামী ১০ জুনের সাতটি আন্ত নগর ট্রেনের আগাম টিকিট কাউন্টারে রয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছে। তূর্ণা নিশীথা ছাড়া আজ (গতকাল) বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্টেশনের কাউন্টারগুলোতে অন্য সাতটি ট্রেনের এক হাজার ২১৮টি টিকিট অবিক্রীত আছে। এগুলো টিকিটপ্রত্যাশীরা স্টেশনে এসেই কিনতে পারবে। ’-কালেরকন্ঠ