মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে–এরশাদ

8

চট্টগ্রাম অফিসঃ সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘মাদক নির্মূলের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কারা আমরা জানি না। মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে আগে ফাঁসিতে ঝুলান।’ তিনি বলেন, ‘এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করতে পারেন না। প্রত্যেক নাগরিকেরই সাংবিধানিকভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’

বুধবার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি মাস থেকেই মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে ৩০ জনের বেশি মাদক কারবারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। জঙ্গি দমনের পর এবার দেশ থেকে মাদক নির্মূলে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাদকের বিস্তারের জন্য কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দিকে আঙুল তুলেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে টেকনাফ আসন থেকে জয়ী বদির বিরুদ্ধে নানা সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ এসেছে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ ৭৯ মানব পাচারকারীর তালিকায় বদির নাম ১ নম্বরে ছিল বলেও ২০১৫ সালের মাঝামাঝি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আসে। এ ছাড়া একই বছরের ডিসেম্বরে পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে আরেকটি তদন্তে বদির আট আত্মীয়কে মানব পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বদি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন। বলেছেন, গণমাধ্যম যাচাই-বাছাই না করেই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

মাদক নির্মূলে সরকার নিক্রিয় অভিযোগ তুলে জাপা প্রধান তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনা করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে মাদক নির্মূলে সরকারের সচেতনতাকে স্বাগত জানালেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

এরশাদ বলেন, ‘সারাদেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে মাদকের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আগামী সংসদেই আইন পাস করতে হবে। প্রয়োজনে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকের জড়িতদের বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন।’

‘মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করুন। সংসদে বিল আনুন, আমরা পাস করিয়ে দেব। এভাবে বিচার ছাড়া হত্যা করা উচিয় নয়। কোথাও এর নজির নেই। বিশ্ব এটা মেনে নেবে না।’

অনুষ্ঠানে যানজট নিয়েও কথা বলেন এরশাদ। রাজধানীতে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েমের বিকল্প দেখছেন না সাবেক এই স্বৈরশাসক।

এরশাদ বলেন, ‘মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এটা রাজধানী শহর হতে পারে না। যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫১ লাখ কর্মঘণ্টা অপব্যয় হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছ দেশ।’