কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে অবরোধ স্থগিত

10

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সারদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা।

সোমবার বেলা একটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। রাতে আন্দোলনকারীরা প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে।

দুপুরে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে স্লোগান দেয়। এতে আশেপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। গাড়ি না চলায় অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে ছেড়ে দিতে দেখা গেছে।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর জানান, আমরা জানতে পেরেছি প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। তাই আমরা আজকের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচী স্থগিত ঘোষণা করছি। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচী চলবে।

এর আগে একই দাবিতে বেলা এগারোটা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা মিছিল বের করে। মিছিলটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদর্শন করে শহীদ মিনার, কার্জন হল, হাইকোর্ট, শিশুপার্ক হয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান। কয়েকবার প্রজ্ঞাপন জারির আল্টিমেটাম দিলেও তা করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সোমবার আবার রাজধানীসহ সারাদেশে কর্মসূচী পালন করে।