খুলনায় ভোটের রাতে নানা অভিযোগ নিয়ে ইসি কার্যালয়ে মঞ্জু

2

খুলনা অফিসঃ রাত পোহালেই খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোট। এর আগে বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে গিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা মেট্রপলিটন পুলিশ কমিশনার (কেএমপি) হুমায়ুন কবির ও পাঁচ থানার ওসির প্রত্যাহার। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী আগে থেকে মামলা না থাকা নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করা, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেয়া ও আবাসিক হোটেল থেকে বহিরাগতদের আটক করা।

সোমবার রাত আটটার দিকে খুলনা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসব দাবি জানান মঞ্জু।

রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তিনি বলেন, তার দাবি এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় তিনি নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে নিজ কার্যালয়ে ফিরে যাবেন না।

এর আগে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলাকায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটের আগের দিন সোমবার এই আদেশ এসেছে।

এই রায় বাস্তবায়ন করে তার নেতাকর্মী ও ভোটারদের হয়রানি না করার জন্য দাবি জানান মঞ্জু।

বিএনপির প্রার্থী বলেন, কিছুক্ষণ আগে যুবদলের সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। অনেক নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘেরাও আছে পুলিশের দল। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এসব হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের জন্য এখন কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা মাত্র। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকার চারটা পর্যন্ত এই ভোটের দিকে মহানগরবাসীর পাশাপাশি দৃষ্টি থাকবে সারা দেশেরই।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে যে পাঁচ মহানগরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হচ্ছে তার মধ্যে প্রথম রায় দেবে খুলনার ভোটাররা। আর স্থানীয় নির্বাচন নানা কারণে জাতীয় নির্বাচনের আবহ ধারণ করেছে।

গত ২৪ এপ্রিল ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর থেকেই বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার সমর্থকদের ব্যাপকহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন। রবিবার ভোটের প্রচারের শেষ দিন দেড়শ কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তারের হিসাবও দেন তিনি।

তবে, পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট মামলার আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নাশকতার মামলার আসামিরা এলাকায় ফেরায় তাদেরকে ধরা হয়েছে। ২০১৩, ১৩ ও ১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে নাশকতার ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল।

ভোটের দুই দিন আগে রবিবার কর্মীদের গ্রেপ্তারকে অবৈধ দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। আদালতের আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানে বলে তারা আমাদের নেতা-কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণ শুরু করেছে। এরই মধ্যে চারশ পাচঁশ লোকের বেশি গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।’

‘এমনকি বিএনপির সাধারণ সমর্থকদেরও তাদের উপরও একইরকম নির্যাতন চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি রিট দায়ের করি।’