সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খোলার দাবিতে কৃষক সমিতির স্মারকলিপি পেশ

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ সোমবার বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উদ্যোগে ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করার দাবিতে সারাদেশের জেলা উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচিতে কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুরের সভাপতিত্বে এবং সহ সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য লাকী আক্তার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরিফুজ্জামান শরিফ, সুনামগঞ্জ জেলার কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, ঢাকা জেলা কমিটির সংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন ঝন্টু, নারায়নগঞ্জ জেলার কৃষক নেতা মনিরুজ্জামান চন্দন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান। ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান কৃষি থেকেই আসে। সরকারের ভুল নীতির কারণে কৃষি ও কৃষক আজ বিপন্ন। হাওর অঞ্চলসহ সারাদেশের কৃষকদের ধান বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত ক্রয়কেন্দ্র ও সংরক্ষণের জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে কৃষকরা কম দামে ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
সরকার এ বছর বোরো ধানের দাম মণ প্রতি ১,০৪০ টাকা নির্ধারণ করে করেছে। কিন্তু সারাদেশে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় মধ্যস্বত্ত্বভোগী ফড়িয়া ও চাতাল মালিকের দালালরা সিন্ডিকেট হয়ে বাজারে ধানের দাম নির্ধারণ করে কৃষকের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় মণে ক্রয় করছে। কৃষকরাও ধান সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এবং মহাজনি ঋণ পরিশোধ করার তাগিদে কম দামে লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে কৃষকরা লোকসান গুনে ধান উৎপাদনে নিরুৎসাহীত হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, গতবছর হাওরে দুর্যোগের পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে কৃষক আবারো চাষাবাদ করেছে। মাথার উপর ঋণের বোঝা নিয়ে তারা এ বছর চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু এ বছর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। বাজার এখন ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের দখলে। ফলে কৃষক নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
এছাড়া এ সময় বৃষ্টিপাত ক্রমশ বাড়তে থাকায় কৃষক ধান শুকাতে পারছেনা। আবার কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত শিল্প কারখানা নির্মাণসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের দরুণ বজ্রপাতে অনেক কৃষক মারা যাচ্ছে। কৃষকের বীমা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের পরিবারও আজ মারাত্মক অনিশ্চিয়তায় জীবন যাপন করছে। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলার আহবান জানান বক্তারা।