সিটি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছে পুলিশ

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ খুলনা সিটি করপোরেশনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বোচনকে বাধাগ্রস্ত করছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি। পুলিশের এই বাড়াবাড়ি থামাতে অনুরোধও করেছে তারা।

রবিবার বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দলের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে এই অভিযোগ করে। এ সময় তারা কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহারের অনুরোধ করে।

বেলা চারটার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নজরুল।

বিএনপি এ নেতা বলেন, ‘সেখানে পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নারী পুলিশরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের নারী এজেন্ট, পুরুষ পুলিশরা পুরুষ এজেন্টদের ধমক দেয়, ভয় দেখাচ্ছে। এ জন্য অনেকে এজেন্টদের তালিকা চেঞ্জ (পাল্টানো) করতে হচ্ছে। কারণ অনেকেই চাপের মুখে এজেন্ট থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।’

‘এ জন্য আমরা কমিশনের কাছে আজকে আসলাম যে, কারণ খুলনা মহানগরের পুলিশ প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন। আপনারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। যাতে করে তারা আমাদের নেতাকর্মীদেরকে যেভাবে গ্রেপ্তার করছে, হয়রানি করছে এটা না করে।’

খুলনায় গত ২৪ এপ্রিল নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকেই এই অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ একে ঢালাও অভিযোগ আখ্যা দিয়েছে। আর পুলিশ বলছে, নাশকতার মামলার আসামি যারা এলাকায় ফিরেছে, তাদেরকে আটক করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই সরকারের আমলে মামলা নেই, বিএনপির এমন নেতা কর্মীর সংখ্যা খুব কম। আমাদের চেয়ারপারসনের নামে ৩৫টি মামলা, মহাসচিবের নামে রয়েছে ৮৮টি মামলা।’

‘আর মামলা থাকলেই তো গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করতে হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা লাগে। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অনেকের নামেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই।’

কমিশন কী বলেছে-জানতে চাইলে নজরুল বলেন, ‘ওনারা আজকেও বলেছেন যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন যেন এটা না ঘটে। বলেছেন ব্যবস্থা নেবেন এবং যেই বাড়াবাড়ি করুক। সেটার বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবেন। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চান, অবৈধ প্রভাব কেউ বিস্তার করুক এটা চান না।’

কমিশন আগেও এই ধরনের আশ্বাস দিয়েছিল জানিয়ে নজরুল বলেন, তাদের পরের কাজে আস্থা রাখতে পারেননি তারা।

‘আমরা তাদের এসব কথা শুনেছি এবং এ কথাগুলি স্বস্তিদায়ক কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার পরবর্তীতে যেটা ঘটে সেটা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।’

আরেক প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা এসে কোনো অনুরোধ করলে সেটি কার্যকর হয়। আমরা আমরা অনুরোধ করলে সেটা কার্যকর হয় না। এটিই বাস্তবতা এখন।’

‘কিন্তু এই বাস্তবতাকে অতিক্রম করেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি এবং জনগণের উপর আমাদের এই আস্থা আছে যে, তারা সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ইনশাল্লাহ আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।’

‘প্রতিকূল’ অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকবে কি না, এই প্রশ্নও ছিল নজরুলের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনাররা যেটা বলেছেন, সেটি তারা কার্যকর করবেন। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা যাচ্ছি।’

‘যেহেতু পুরো কমিশন উপস্থিত ছিলেন আজকে আলোচনার পরে তারা যেটি বলেছেন যে, অন্যায়ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না, কোনো বাড়াবাড়ি করা হবে না। কারো বাড়ি ঘরে ভাঙচুর, অফিস ভাঙচুর এসব হবে না। কমিশনের এই কথাগুলো আমরা আস্থায় নিতে চাই।’

বৈঠকে সিইসির সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন।