কাশ্মিরে সহিংসতা বেড়েই চলেছে: রমজানে সেনাবাহিনীকে অস্ত্রবিরতির দাবি

12

নয়াদিল্লী থেকে সঞ্জীব রায়ঃ হত্যা, খুন অসহিষ্ণুতা – কোনভাবেই থামছে না ভারতের অন্যতম মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরে। বিশেষত, গত দুই সপ্তাহে কাশ্মীর উপত্যকায় ১৩ জন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা হয় যার মধ্যে শুধুমাত্র শপিয়ান জেলাতেই সাত জনের মৃত্যু হয়। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে জনজীবনে চলমান আতংক। সব মিলিয়ে সংকট ঘনীভূত হয়ে উঠছে। রাজ্যটির সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন আর স্বাধীন রাজ্যের দাবিকারী বেশ কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিয়মিত প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মূখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি রাজ্যের মূল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি “অস্ত্রবিরতি”র আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে ভারতের রাজধানী দিল্লীকেন্দ্রীক সচেতন নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেও এই দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার চাইছে রমজান থেকে শুরু করে ঈদ এবং অমরনাথ তীর্থ যাত্রা পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী অস্ত্রের ব্যবহার না করুক। নাগরিক সমাজের মতে সরকারের উচিৎ অবিলমম্বে সেনা সদস্যদের সরিয়ে নেয়া এবং সব ধরনের অপারেশন বন্ধ করে জনজীবনে শান্তি ফেরানো।

যদিও দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজ্য প্রতিনিধি সুনীল শেঠি অস্ত্রবিরতির দাবিকে সম্পূর্ণ নাকোচ করে দিয়েছে। তার মতে, মূখ্যমন্ত্রী কোনভাবেই সরকারকে এ ব্যাপাওে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। সেনাবাহিনীর অভিযান সন্ত্রাসী ও জঙ্গি দমনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকার রাখছে বলে মনে করেন তিনি।

এই চলমান সহিংসতার কারণে রাজ্যটির তরুন ও যুবকরা সবচেয়ে বেশি হয়রানীর শিকার হচ্ছে। আতংক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে নারী ও শিশুরা। জঙ্গি ও স্বাধীনতাকামী গেরিলা সদস্যদের গুলিতে সিআরপিএফ (কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী) এর এক সদস্য মারা যাওয়ার পর পুলাউমা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশী চালায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে এমন তল্লাশী আর অভিযান নিয়মিত সহ্য করতে হয় কাশ্মির উপত্যকার সাধরণ মানুষদের। যদিও সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত শনিবার শ্রীনহরের জিওসি ল্যাফটেনেন্ট জেনারেল এ কে ভাট বলেছেন, তারা জঙ্গিদের এখনো সুযোগ দিচ্ছে অত্মসমর্পন করার। কিন্তু বাস্তবাতা বলছে, বিভিন্ন সংগঠন, স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী এবং গোপন জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে।

শনিবার, আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির এক সভায় কাশ্মিরভিত্তিক সংগঠন হুরাইয়াত কনফারেন্স এর সভাপতি মিরওয়াইজ উমর ফারুক দিল্লীর প্রতি আহবান জানান অবিলম্বে জনগনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে কাশ্মির থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নিতে।

সার্বিকভাবে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির মধ্যে কাশ্মির সংকট সমাধানের কোন সহজ পন্থা আছে বলে দেখা যাচ্ছে না। চলমান সহিংসতা বন্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ সরকার নেবে সে বিষয়েও কোন সুনির্দিষ্ট বার্তা মিলছে না। এ অবস্থায় অসষ্ণিুতা বেড়ে চলেছে। গত সপ্তাহে রাজধানী দিল্লীতে বসবাসকারী একটি কাশ্মিরী পরিবারের উপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থা চলমান থাকলে দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতা ছড়াতে পারে। তাই তাদের মতে, রজমান মাসকে কেন্দ্র করে সরকারের উচিৎ হবে জম্মু-কাশ্মিরের জনসাধারনকে শান্তির বারতা দেয়া।