সিআইপি-শিল্প প্রাথমিক তালিকায় ৬৯ জন

9

যুগবার্তা ডেস্কঃ শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি (সিআইপি-শিল্প) নির্বাচন চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এসব ব্যক্তি ২০১৬ সালের জন্য মনোনীত হবেন।

তাঁদের ব্যাবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে এরই মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ৬৯ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকা যাচাই-বাছাই করে সিআইপি কার্ডপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক তালিকায় নতুন নাম যোগ করা হতে পারে অথবা তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেও পারে। এ তালিকার বাইরে প্রতিবছরের মতো এবারও পদাধিকারবলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতিকে সিআইপি কার্ড সরবরাহ করা হবে। কোন কোন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতিকে সিআইপি কার্ড দেওয়া হবে তাও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করা হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এ চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।

শিল্পসচিব মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার সিআইপি হিসেবে কিছু ব্যক্তিকে সম্মাননা দিয়ে থাকে। এসব ব্যক্তি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন। সিআইপি হিসেবে সম্মাননা দেওয়ার দুটি দিক রয়েছে—এক, অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া, দ্বিতীয়টি হলো যাঁরা পাবেন না তাঁরা ভবিষ্যতে পেতে উৎসাহিত হবেন।

দেশের বেসরকারি খাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পণ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বাড়ানোসহ অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ‘সিআইপি (শিল্প) নির্বাচন নীতিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী পাঁচ ক্যাটাগরিতে ব্যবসায়ীদের সিআইপি হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী সিআইপি হিসেবে নির্বাচিতদের বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যা প্রদর্শন করলে একগুচ্ছ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। সিআইপি কার্ডধারীরা এক বছরের জন্য কার্ড দেখিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ, বিভিন্ন রষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ এবং ভ্রমণে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা পাবেন। ভ্রমণে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তালিকায় বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে ৪৭ জনের নাম রয়েছে। এসব ব্যক্তি হলেন বিএসআরএম স্টিলসের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী, ইউনিভার্সেল জিন্সের এমডি মো. নাছির উদ্দিন, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. পারভেজ রহমান, এসিআইয়ের এমডি ড. আরিফ দৌলা, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের এমডি আমের আলীহোসাইন, জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকসের এমডি ছামাদ মো. রফিকুল ইসলাম (নোমান), কসমোপলিটনের পরিচালক তানভীর আহমেদ, আবদুল মোমেনের এমডি আবদুল মোনেম, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের এমডি আবু নোমান হাওলাদার, পাহাড়তলী টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলসের এমডি মির্জা সালমান ইস্পাহানি, ফারিহা নিট টেক্সের চেয়ারম্যান মো. মামুন ভূঁইয়া, এম আর এস ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি শামসুর রহমান, মেসার্স ভিয়েলাটেক্সের এমডি রেজাউল হাসানাত, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, প্যাসিফিক জিন্সের মনোনীত মালিক পরিচালক সৈয়দ মো. তানভীর, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বাদশা টেক্সটাইলের এমডি মো. বাদশা মিয়া, মেঘনা সিমেন্ট মিলসের উদ্যোক্তা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, কামাল ইয়ার্নের পরিচালক কামাল উদ্দিন আহমেদ, মেসার্স ইন্টারফ্যাব শার্ট ফ্যানুফ্যাকচারিংয়ের এমডি আহসান কবির খান, পলো কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি এম এ জলিল অনন্ত, শোর টু শোর (বাংলাদেশ) এমডি হাজি ইউনুছ আহমদ, নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের পরিচালক আবদুল্লাহ মো. তালহা, ইসলাম রি-রোলিং মিলসের এমডি আজহারুল ইসলাম, সুপার রিফাইনারির এমডি সেলিম আহমেদ, ওয়েল ফ্যাশনের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ইসমাইল টেক্সটাইল মিলসের পরিচালক আবদুল্লাহ জাবের, থার্মেক্স টেক্সটাইল মিলসের এমডি আব্দুল কাদির মোল্লা, ওয়েল মার্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল ইসলাস, এসিআই ফরমুলেশনসের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা, হাসান জুট মিলসের এমডি এ টি এম শাফিকুল হাসান (জুয়েল), মীর সিরামিকের এমডি মীর নাসির হোসেন, সানজি টেক্সটাইল মিলসের এমডি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, ফর্টিস গার্মেন্টসের এমডি মো. শাহাদাত হোসেন, টেক্স লিমিটেডের এমডি আব্দুল জব্বার, মেসার্স মানতা অ্যাপারেলসের এমডি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, ভিয়েলাটেক্স স্পিনিংয়ের পরিচালক কানিজ ফাতেমা জেরিন, ওহাব জুট মিলসের চেয়ারম্যান শায়লা ফারুক, মতিন স্পিনিং মিলসের পরিচালক মো. হাসান ইমাম, আসওয়াদ কম্পোজিট মিলসের এমডি নাফিস সিকদার, সাইনেস্ট অ্যাপারেলসের এমডি আলী আজীম খান, জেম জুটের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, টেক্সটাইলসের এমডি আব্দুল জব্বার, অনন্ত গার্মেন্টসের এমডি ইনামুল হক খান, ফরচুন শুজের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান।

মাঝারি শিল্প (উৎপাদন) ১৬ জনের নাম রয়েছে। এসব ব্যক্তি হলেন আরএফএল প্লাস্টিকসের পরিচালক আহসান খান চৌধুরী, প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান, অকো টেক্সের এমডি আব্দুস সোবহান, মাধবদী ডায়িং ফিনিশিং মিলসের এমডি নিজাম উদ্দিন, ফু-ওয়াং ফুডসের এমডি আরিফ আহমেদ চৌধুরী, একোয়া মিনারেল টারপেনটাইন অ্যান্ড সলভেন্টস প্লান্টের এমডি রামজুল সিরাজ, মেসার্স সিটাডেল অ্যাপারেলসের এমডি মো. মাহিদুল ইসলাম, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডসের এমডি আব্দুল জব্বার মোল্লা, বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি জেড এম গোলাম নবী, ইগলু ফুডসের পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দিন মোনেম, বিআরবি পলিমারের এমডি মজিবর রহমান, মোশাররফ স্পিনিং মিলসের এমডি মোশাররফ হোসেন, ফ্লামিগো ফ্যাশনসের এমডি আব্দুল জব্বার, ফন্নাত ফ্যাশনসের পরিচালক আব্দুল কাদের, জিন্নাত নিটওয়্যারের পরিচালক আব্দুর রহিম, জেমিনি সি ফুডের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ।

মাঝারী শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে তিনজনের নাম রয়েছে। এ তিন ব্যক্তি হলেন স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারসের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দীন, শান্তা প্রপার্টিজের পরিচালক জেসমিন সুলতানা, বিল্ডিং ফর ফিউচারের এমডি তানভিরুল হক প্রবাল। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে আছেন কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে আছেন টেকনোমিডিয়ার এমডি যশোদা জীবন দেব নাথ। কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে আছেন এবি ফ্যাশান মেকার স্বত্বাধিকারী সানাউল হক বাবুল। প্রতিবছরই পদাধিকারবলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতিকে সিআইপি কার্ড সরবরাহ করা হয়। যে সময়ের জন্য শিল্প খাতের অবদান বিবেচনা করা হয় সংশ্লিষ্ট মোয়দকালে নির্বাচিত ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনরতরা সিআইপি কার্ড পান।

২০১৫ সালে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় গত বছরের (২০১৭) ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ করা সিআইপি কার্ড পান ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) পক্ষে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) পক্ষে এ কে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পক্ষে আতিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পক্ষে এ কে এম সেলিম ওসমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) পক্ষে রূপালী হক চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে সেলিমা আহমাদ, এমপয়ার্স ফেডারেশনের (বিএফএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে তপন চৌধুরী।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালের জন্য কোন কোন সংগঠনের সভাপতিকে সিআইসি কার্ড সরবরাহ করা হবে তা শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।-কালেরকন্ঠ