জাতীয় কমিটির ১৪ই মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি আইন: অভূতপূর্ব দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রাণ প্রকৃতি বিনাশী প্রকল্প দিয়ে বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করবার পরিপ্রেক্ষষিতে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আজ চনিবার সকালে তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। উপস্থিত টিপু বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, খালেকুজ্জামান লিপন, প্রকৌশলী মওদুদুর রহমান, আকবর খান, বাচ্চু ভূঁইয়া, নাসিরউদ্দীন নাসু, মহিন উদ্দীন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে দ্রুত পরিবর্তন আনয়নের নাম করে, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনসহ জনস্বার্থবিরোধী নানা চুক্তি অথবা অন্য কোনো কার্যক্রম বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, কিংবা আদেশ-নির্দেশের ˆবধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে কোন ধরনের প্রতিকার পাবার অধিকার হরণ করে সর্বশেষ ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়মুক্তি আইন আছে। এটির মেয়াদ আবারও বৃদ্ধি করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, জনস্বার্থ নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে এবং তা বাস্তবায়ন করলে দায়মুক্তি আইনের কোন প্রয়োজন পড়ে না। দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব ব্যয়বহুল ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, গত ৮ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৮ বার। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে মেটাতে সরকার চুক্তি মোতাবেক বাধ্য থাকায় গত ৮ বছরে বিপিডিবি’র ঘাড়ে জমেছে ৪৯ হাজার কোটি টাকার লোকসানের বোঝা।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের স্থল এবং অগভীর সমুদ্র সীমানায় যে আরও অন্তত ৩২ টিসিএফ গ্যাস পাবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে তা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাসের ম‚ল্য ২০০ শতাংশ এবং শিল্প কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার এবং সিএনজির জন্য সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই চুড়ান্ত করা হয়েছে। এতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, যাতায়াত, বিদ্যুত সহ ˆদনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরেক দফা বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির কোন খরচ নেই। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে সৌর বিদ্যুতের কমতে থাকা দাম তেল-কয়লা কিংবা পরমাণু বিদ্যুতের মত ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবার কোন সুযোগ নেই। সোলার সিস্টেমের দাম যখন বেশী ছিল তখনও বাংলাদেশের মানুষ মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করেছে। কিন্তু গত ৭ বছরে প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের দাম ৭২ শতাংশ কমে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী বাজারে এসেছে। ভারতে এই বিদ্যুৎ এখন সাড়ে ৩ টাকারও কম খরচে উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের সরকার এই খাত উন্নয়নে মনোযোগী নয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামি ১৪ মে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া মে-জুন মাসে জনসংযোগ, প্রচার, বিভিন্ন অঞ্চলে সভা সমাবেশ’, জুলাই মাসে বিভিন্ন বিভাগীয় সদরে বিভাগীয় সমাবেশ এবং জুলাই মাসের শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা কথা জানানো হয়।