পরিবহন সংকটে নিপীড়িত জবি শিক্ষার্থীরা

25

অন্তু আহমেদ, জবি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এক যুগ পার হলেও রয়ে গেছে নানা সঙ্কট। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকে তার প্রায় বেশিরভাগই নেই ক্যাম্পাসটিতে। আবাসন, পরিবহন সঙ্কট, পর্যাপ্ত ক্লাস-রুমের অভাব ইত্যাদি সমস্যাগুলো ঘিরে রেখেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে।

উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে এসব সঙ্কটের সমাধানের পথ খুঁজে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপে। নতুন ভবনের কাজ ইতোমধ্যে নবম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে ক্লাস-রুমের সঙ্কট অনেকাংশে দূর হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রীদের জন্য করা হচ্ছে ১৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হল।

উপাচার্যের প্রচেষ্টায় আরেকটি সাফল্য বিশ্ববিদ্যলয়ের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা করা হয় নতুন তিনটি বাস। আবাসন সুবিধা বঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই বাসের সংখ্যা শিক্ষার্থীদের তুলনায় খুবই নগণ্য। এই অবস্থায় শিইক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়কৃত বাস তিনটি প্রায় একমাস হলেও এখনো চালু করতে পারেনি প্রশাসন। বাসগুলো গত ২০ মার্চ উদ্বোধন এবং হস্তান্তর করা হয় পরিবহন পুলের কাছে। বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মাঠে পড়ে আছে এসব বাসগুলো।

এই বিষয়ে পরিবহন পুলের প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাস রাস্তায় চলাচল বেআইনি। বাস তিনটির এখনো রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দকৃত অর্থ এখনও পাইনি। দুই একদিনের মধ্যে অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ পেলে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বাসগুলো রাস্তায় নামাতে পারবো।
বাসগুলো কোন রুটে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসের রুট এখনো ঠিক হয়নি। তবে নতুন গাড়িতে অপচয় কম হয়। তাই এই বাসগুলো বেশি দূরত্বের স্থানে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে বিআরটিসি থেকে ভাড়া করা দুই তলা বিশিষ্ট বাসে যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন রুটের এই বাসগুলো তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে না যেয়ে তার আগেই শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেয়। এছাড়া তারা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ যাত্রীদের নেয় বলেও জানা যায়। মাঝে মাঝে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যান্ত্রিক ত্রুটির অযুহাতে বন্ধ থাকে বাসগুলো। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

বাসে যাতায়াত করা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সজল জানায়, উল্কা-১ বাসটি উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় মগবাজার মালিবাগ ফ্লাইওভার-এর কাজ চলার কারণে বাড্ডা লিংক রোড নামিয়ে দিতো। কিন্তু এখন ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলেও বাসটি লিংক রোডের পর আর যায় না। অনেক সময় গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বলে আমাদের রাস্তার মাঝখানেও নামিয়ে দেয়।

এই ব্যাপারে পরিবহন পুলের প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ইতোমধ্যে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তবে এই ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উচিৎ ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলা এবং তাকে চাপে রাখা যেন এসব কাজ ড্রাইভাররা করতে না পারে।