খুলনা-দর্শণা রেলপথ ডাবল লেন হচ্ছে

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ খুলনা-ঢাকা রেল রুটের দর্শনা পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। বর্তমান সিঙ্গেল লাইনের কারণে দুটি ট্রেন চলাচলে দীর্ঘসময় লাগে। তাই ডাবল লাইন নির্মাণ হলে কমবে সেই দুর্ভোগ, বাঁচবে সময়। প্রকল্পের আওতায় খুলনা থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পর্যন্ত ১২৬ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা থেকে মংলাবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় খুলানা-দর্শনা ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার লুপ নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ, একটি মেজর ও ৯টি মাইনর ব্রিজ, ১৩০টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, সাতটি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ৯টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্বাসন, ২৫টি প্লাটফর্ম নির্মাণ, বিদ্যমান ১২টি স্টেশনের প্লাটফর্ম পুনর্বাসন, ১৭টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং ১৮টি রেলওয়ে স্টেশনে সিবিআই ইন্টারলকিং সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। প্রকল্পে ভারতের সহায়তা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। বাকি ৮২১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা জানান।

অন্যদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো জানান, জেনেটিক সম্পদগুলোকে বলা হয় এই গ্রহের “প্রথম প্রাকৃতিক সম্পদ”। এ সকল জেনেটিক সম্পদগুলোর উপর ভিত্তি করে গবেষকগণ বিভিন্ন উন্নত গুণগত মানসম্পন্ন এবং অধিক উৎপাদনশীল বিভিন্ন জাত বা ব্যারাইটি উদ্ভাবন করে থাকে। এই সম্পদ হারিয়ে গলে মানব জাতি হারিয়ে ফেলে নতুন সামাজিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থার সাথে কৃষি অভিযোজনের সম্ভাব্য উপায়। পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা অর্জন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংক্রান্ত ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় জেনেটিক সম্পদের টেকসই পুনঃউৎপাদন ও ব্যবহার, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন কার্যকৃমে এদের সঠিক ব্যবহার এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য সংরক্ষণ এখন সময়ের চাহিদা। দেশের জীববৈচিত্র সংরক্ষণার্থে বিরাজমান ও বিলুপ্ত প্রায় কৌলি সম্পদ (জেনিটিক রিসোর্সেস/জেনেটিক সম্পদ) এর তালিকা তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে এর সুফল দেশ ও মানুষের কল্যাণে প্রয়োগের নিমিত্ত জাতীয় জীন ব্যাংক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ লক্ষ্যে ঢাকার সাভারে “জাতীয় জীন ব্যাংক স্থাপন” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৬০.০০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি। এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি ও গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি মার্চ, ২০১৮ হতে জুন, ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে।

আজকের একনেকের অন্যান্য প্রকপল্পগুলো হলো-
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের “পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ উন্নয়ন” প্রকল্প;
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ১টি আঞ্চলিক (আর-৫৪৯) ও ২টি জেলা (জেড-৬৮৫২, জেড-৫২০৭) মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ” প্রকল্প;
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “জয়পুরহাট (হিচমী)-পুরান আইপল-পাঁচবিবি –হিলি (শহর লিংকসহ) মহাসড়ক উন্ন য়ন” প্রকল্প;
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “নড়াইল-ফুলতলা জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ”প্রকল্প;
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “উলøাপাড়া রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ” প্রকল্প;
স্থানীয় সরকার বিভাগের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রণ ব্রিজ পুনঃনির্মাণ/ পুনর্বাসন” প্রকল্প;
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (৪র্থ পর্যায়)” প্রকল্প;
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “১৫টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি নবায়ন, সংস্কার ও মেরামত”প্রকল্প;
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের “সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ” প্রকল্প।

আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।