চাকরিচ্যুত শিক্ষক নাসিরের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে সিন্ডিকেট

13

অন্তু আহমেদ ,জবি : প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধাপক নাসির উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ এখনো বহাল আছে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। আন্দোলন করে সিণ্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা যাবে না বলে জানান তিনি।

রোববার দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. মীজানুর রহমান এসব কথা জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বলা হয়েছে তাকে (নাসির উদ্দিন) আবেদন করতে হবে। সেটা তিনি যেভাবে (পুনর্বিবেচনা বা ক্ষমাপ্রার্থনা) চাইবেন সেভাবেই সিন্ডিকেট তা বিবেচনা করবে। এর বাইরে কোনোভাবেই তাকে চাকরিতে বহালের সুযোগ নেই। এছাড়া তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে আবারও চাকরিতে বহাল করা হবে এমন নিশ্চয়তাও আমরা দিচ্ছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কিন্তু বহিষ্কার করা হয়নি। চাকরিচুত্য করার ফলে এখন তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে পারবেন ও কিছু সুযোগ-সুবিধাদি পাবেন। বহিষ্কার করা হলে সে সুযোগ থাকতো না। তাকে সে সুযোগটি দেওয়া হয়েছে।’

নাসির উদ্দিনের ক্লাসে ফিরে আসাকে গুজব আখ্যা দিয়ে উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, ‘অনেকে বলছেন ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে তাকে চাকরিতে বহাল করে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমি আপনাদের জানাচ্ছি— এখন কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছাড়া তাকে চাকরিতে বহাল করা হবে না। তার আবেদনের পর পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এটি নিয়ে আলোচনা করার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে এরপর বেলা ২.৩০টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন সহযোগী অধাপক নাসির উদ্দিন। শিক্ষার্থীরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে এবং আনন্দ মিছিল করে। এরপর তিনি রফিক ভবনের নিচে সকলের উদ্দেশ্যে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার শিক্ষার্থীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। তারা যেন সামনে এভাবে ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন করে। আমার জন্য ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী যে যেভাবে পেরেছে আন্দোলন করেছে। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। মাননীয় উপাচার্য মহদোয়ও আমাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তরিক। আমি উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

এর আগে গত বৃহস্পতিবারের ধারাবাহিকতায় আজ সকালেও শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে উনার কনফারেন্স রুমে আলোচনায় বসেন ১৫ সদস্যের ছাত্র প্রতিনিধি দল।

প্রায় একঘণ্টা বৈঠক শেষে তারা তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে দাবি করে জানায়, উপাচার্য তাদের আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই নাসির উদ্দিনকে চাকরিতে বহাল করা হবে এবং ওই শিক্ষককে ক্লাসে ফিরাবেন।

এই আশ্বাসের ভিত্তিতে রোববারের জন্য আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।