আমদানি ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ৬১ শতাংশ

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পণ্য আমদানির উদ্দেশ্যে ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা বেড়েছে ৬০.৭১ শতাংশ। এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৩.৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানির উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলোতে ২৯৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এর বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ২২০ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের এলসি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ২১৭.৩৯ শতাংশ ও ১৮১.৬২ শতাংশ।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা ৩০.৩৬ শতাংশ বাড়লেও নিষ্পত্তি কমেছে ০.১৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয় ৪৪২ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের। নিষ্পত্তি হয় ৩৫০ কোটি ৩১ লাখ ডলারের।

পেট্রোলিয়ামজাত দব্য আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ২৬.৪৫ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে ২১.১৭ শতাংশ। এ খাতের পণ্য আমদানির জন্য ২২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়, নিষ্পত্তি হয় ১৯৩ কোটি ডলারের এলসি। শিল্প কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ১৪.৬৭ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯.৫৭ শতাংশ।

মূল্যের দিক দিয়ে শিল্প কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে এক হাজার ২৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের এবং নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ১৮০ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের এলসি।

এ ছাড়া বিবিধ পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে দুই হাজার ৭৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের এবং নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ৪৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের এলসি। সব মিলিয়ে আলোচ্য আট মাসে এলসি খোলা হয়েছে পাঁচ হাজার ২০ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের এবং নিষ্পত্তি হয়েছে তিন হাজার ৩৮৪ কোটি ১৯ লাখ ডলারের এলসি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির অঙ্ক ছিল যথাক্রমে তিন হাজার ১২৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার ও দুই হাজার ৯৮৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ৬০.৭১ শতাংশ এবং ১৩.৩৯ শতাংশ। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১৩.২৮ শতাংশ ও ১১.১৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির অঙ্কের পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, এলসি খোলার হার অনেকাংশে বাড়লেও নিষ্পত্তির হার সে তুলনায় বাড়েনি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রেকর্ড থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে চালের আমদানি বেড়েছে বহুগুণ। গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে চালের আমদানি ব্যয় ছিল তিন কোটি আট লাখ ডলার। সেখানে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে চালের আমদানি ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার চার হাজার ১৫২ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে চালের আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে গমের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

এদিকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৬৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের পুরো সময়ের ঘাটতির চার গুণেরও বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রপ্তানির তুলনায় আমদানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বিশাল এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ২৬.২২ শতাংশ, অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.০৬ শতাংশ। এই আট মাসে আমদানির পেছনে দেশের ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৫৮২ কোটি ডলার। অন্যদিকে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে দুই হাজার ৪০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। যেখানে গত অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৬০৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার।-কালেরকন্ঠ