সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে তাদেরই ছাত্র সংগঠন

28

আশিকুল কায়েসঃ সময় এসেছে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের অভিভাবকত্ব ফলানো। উচ্চ শিক্ষার নামে আপনার ছেলে বা মেয়ে কি করছে একটু ভেবে দেখেছেন? কখনও খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছেন কলেজে ক্লাস হচ্ছে কিনা? ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে নিজের বুঝ নিজেই বোঝে, কথাটা মাথায় রেখে আমার আপনার মত অভিভাবক যখন উচ্চ শিক্ষার নামে ঘুড়ি উড়ানোর মত বছরের পর বছর নিজেদের ছেলে মেয়েদের নিশ্চিতে ছেড়ে দেয় সুশিক্ষিত হবার অন্ধ বিশ্বাসে। আর একারনেই উচ্চ শিক্ষিত হবার পেছনে তৈরি হয় কালো আবরণ। ফলে বিসিএস পাশ করানো ছেলের হাতেই মাকে লাঞ্ছিত হতে হয়। আর আপনাদের অবহেলার কারনে সমাজ সেবকদের বৃদ্ধাশ্রমের কথা চিন্তা করতে হয়।
ছাত্রলীগ, ছাত্রদল কিংবা ছাত্র শিবিরে নাম লিখালেই কি আপনার ছেলে মেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন? যদি সেটাই মনে করেন তাহলে ছোট থেকেই চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, হামলা-পাল্টা হামলা, প্রতিরোধ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিন। কেননা প্রতিনিয়ত সংবাদ গণমাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির মধ্যে এধরনের সংবাদই ছাপা হয় বেশি।এসকল কর্মকান্ডে পারদর্শী না হতে পারলে নেতাদের চাপে আপনার ছেলে মেয়ে সর্বোচ্চ হুকুমজারির পোস্ট নাও পেতে পারে।
প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে আপনার আমার মত কত মা-বাবার বুক খালি হয়েছে একটু ভেবেছেন? আর আমরা আমাদের সন্তানদের রাজনীতিতে ক্যাডার হওয়াকে সমর্থন করি। যারা সমর্থনে মরিয়া একটু খোঁজ নিলেই মিলবে তার বাবা মায়ের অপর পৃষ্ঠার বিশৃঙ্খল কিছু কথা। দেখা যাবে ছাত্রবস্থায় তিনি ক্যাডারবাজি করেছেন, ফলে আজকে তিনি রাজনীতির শীর্ষে অবস্থান করছেন। আর ক্যাডারবাজির ছাত্রদের সঙ্গ দিয়ে একজন ছাত্র নিজেকে কি প্রমাণের আশা করতে পারে। সময় থাকতে অভিভাবকরা চোখ খুলুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক সু নির্বাচন কেন হয় না, তা বোধ হয় আজকের কোটা সংস্কার আন্দোলন সবার চোখেই স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি করছে। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, কোন দলই চাইবে না ডাক সু নির্বাচনের। কেননা তাদের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারবাজির দৌরাত্ম থাকবে না।
ছাত্র আন্দোলন আপনা-আপনিই গড়ে ওঠে সেটা আজকের সমগ্র শিক্ষাঙ্গনে কোটা সংস্কারের আন্দোলন দেখলেই বুঝা যায়। ’৫২ সালে ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক দল খুব বেশি ভূমিকা রেখেছিল সেটা বলা যাবে না, আন্দোলনের সম্পূর্ণ শক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ করেছে। ইতিহাসে আমরা যে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে গর্ব করি তা আজকের বাস্তবতায় ছাত্র গণ আন্দোলন বনাম রাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। আর এটা থেকে স্পষ্ট নিজের অধিকার টিকিয়ে রাখতে এতদিনে জমে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ কোট সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। যা ‘৫২ ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়েছিল।
ক্যাডার রাজনীতিবিদ তাদের ক্ষমতার প্রমাণ দিতেই আজ তারা যৌক্তিক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা সহ ও বই পড়ার টেবিলে যাওয়ার হুমকি দেয়। যখন সংসদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে আখ্যা দেয়া হয়, সভা সেমিনারে ছাত্রলীগের চাকরি ও টাকা পয়সা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক যখন বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাতেকরে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে গণতন্ত্রের নামে এদেশে চলছে এক নায়কতন্ত্র। আমি কোটা সংস্কারের আন্দোলন করি, আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর খোঁজ খবর নিলে দেখা যাবে সবাই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত। এমনকি ইউনিয়ন ও জেলাতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোট সংস্কারে আন্দোলন করলে এই নয় যে আমরাও কি রাজাকার হয়ে গেলাম? পূর্বপুরুষ সারাজীবন রাজাকারের বিরুদ্ধাচরণ করার ফলেও আজ রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজাকারের বাচ্চা হবার কথা শুনতে হয়।
ক্যাম্পাসে অন্য একটি মেয়ের কাছে অপর একটি মেয়ের বস্ত্র হরণের কথা গণমাধ্যম যখন প্রচার হয় তখন এ লজ্জা কোথায় রাখি। যে বস্ত্রহীন হচ্ছে সেও আমার বোন আবার যে বস্ত্র হরণ করছে সেও আমার বোন। আজ যখন সাধারন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দিতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ নেত্রী অপর এক ছাত্রীর উপর নির্যাতন ও রগকাটার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যায় তাতে করে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে নয় বরং ছাত্রলীগের বিষ দাঁত ভাঙ্গার আর একবার এই আন্দোলন থেকে গণবিস্ফোরণের উদ্ভব হতে পারে এবং সরকারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে তাদেরই ছাত্র সংগঠন।-লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ তরুন লেখক পরিষদ।