‘ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়’

4

হাসিব বিল্লাহ : পহেলা বৈশাখ আসতে আর কয়েকদিন বাকি। বাংলা ১৪২৫ নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দেশব্যাপী চলছে নানা আয়োজন। বর্ষবরণের সব আয়োজনের মধ্যে অন্যতম মঙ্গল শোভাযাত্রা। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন মঙ্গল শোভাযাত্রার আহ্বায়ক ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। টিভিএনএ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন কোনো কিছু ঐতিহ্য হয়ে যায় তখন তা ধরে রাখাই কর্তব্য। তাই এ উৎসবকে আরও বড় করে উদযাপন করতে সর্বোচ্চ প্রস্ততি চলছে। মর্হরম, জন্মাষ্টমিসহ বাংলাদেশে অনেক শোভাযাত্রা বহুকাল থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু সেগুলো সম্প্রদায় বিশেষে হওয়ার কারণে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে না। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বাউল, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি গান ও যাত্রাপালার সবটা জুড়ে রয়েছে যেমন অসাম্প্রদায়িকতা, তেমনি এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। শোভাযাত্রায় ট্যাপা পুতুল, কাঠের পুতুল, শখের হাঁড়ি, নানা ধরনের খেলনাসহ লোকসংস্কৃতির সেই পুরোনো ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। যা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্যগুলোকে তুলে ধরে।

গৌরবের এই শোভাযাত্রাটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চারুকলা অনুষদের ২০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ায় এবার আরো জমজমাট করে মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন করবে বলে জানিয়েছেন তারা। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুতুল, মাটির সেরা ও পেপার ওয়ার্কস নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের দায়িত্বে থাকা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আলম বলেন, এবার লালনের গানের লাইন ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বেছে নেওয়া হয়েছে। মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বেশি হচ্ছে। তাই মানুষকে যাতে করে আমরা বুঝতে পারি সেজন্য মানুষকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এ প্রতিপাদ্যকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এবারের সবচেয়ে বড় মাস্কট হবে ট্যাপা পুতুল যাকে দেখা যাবে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া এবার প্রত্যেক মাস্কটের সাথে মিল রয়েছে অন্যটির। যেমন জেলের সাথে জাল-এর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পাখির সাথে পাখির বাচ্চার মাস্কটের মাধ্যমে মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্কের পাশাপাশি মায়ের কোলে শিশুর নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া এবারের অন্যতম আকর্ষণ পরিশ্রমী প্রাণী মহিষ, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এছাড়া মাছ, পাখি, পেঁচা, ছোট সরা, বড় সরা, পেপার মাস্ক, মুখোশ, টেপাপুতুল, বাঘ, মা ও শিশুসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম দেখা যাবে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়।-আমাদের সময়.কম