দেশের জন্মের প্রসব বেদনার দায় মেটাচ্ছেন

79

সুব্রত মন্ডলঃ ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ গত ফেব্রুয়ারিতে অামাকে পাবলিক রিলেশন অফিসার পদে নিয়োগ দিয়েছে। নিয়োগ বিধিতে অামার অফিস টাইম সকাল অাটটা থেকে অাড়াইটা।কিন্তু খুব কম দিনই দিনে বাসায় ফিরতে পারি। অাপনি বলবেন, অফিসে এত সময় কি করি? কেন থাকেন? বাসায় গেলেই তো পারেন। হ্যা, পারতাম। কেন পারি না জানেন।

অামার হসপিটালের ব্যবস্থপনা পরিচালক (এমডি) ডা. রুবাইয়াত ইসলাম মন্টি স্যারর ও চিফ ইক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাঃ এমএ আজিজ স্যারের পরোপকারী মোহের কারণে অাড়াইটায় অফিস শেষ করতে পারি না। অামাদের এমডি ও সিইও হসপিটালটি মানবীয় ও দেশের জন্মের প্রসব বেদনার দায় মেটাচ্ছেন।

অামি হাসপাতালে জয়েন করার পর অসহায় অাব্বাস শেখকে মাদারীপুর থেকে তুলে এনে চিকিৎসা দিয়েছি। অাপনি জানেন, অাব্বাসের ডান পায়ে ঘা হয়ে পচন ধরেছিল। ডান পায়ের ঘায়ের পুচের দুর্গন্ধে তার কাছে তার বাবা ও মা ছাড়া কেউ যেত না। বাচ্চাটি হাটতে পারত না । অসহায় বাবা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়েও চিকিৎসা করাতে পারেন নি। ডা. সিরাজুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে অাব্বাসের শরীরে বিরল ওয়াইল্ড সিন্ড্রোম রোগ সনাক্ত করে। অাজ অাব্বাস নিজ পায়ে হেটে সিড়ি মাড়িয়ে একাই গাড়িতে ওঠৈ ছুটিতে বাড়িতে গেছেন। চারদিন পর অাব্বাসকে এনে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালের সাথে অাব্বাসের পা রিকনস্ট্রাকচার করা হবে।

বুধবার অামাদের হসপিটালে লাইফ সাপোর্টে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্লুটন কমান্ডার জয়নুল হক চৌধুরী শান্তির দেশে পাড়ি দিয়েছে। ৩১শে মার্চ তার মেয়ে ও অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে মৃত্যুপথযাত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অামাদের হসপিটালে ভর্তি করান। এতদিন চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জাতির এই সূর্য সন্তানের পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় অামাদের এমডি ডা. রুবাইয়াত ইসলাম মন্টি স্যারর সব চিকিৎসার সমস্ত খরচ নিজেদের কাধেই নেন।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত বলে কথা। হাসপাতালে দুই লক্ষ ২৬ হাজার টাকার কিছু বেশী বিল হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক চৌধুরীর পরিবার অামাদের হাসপাতালে মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করে। তারা এ অর্থ না দিলেও অামরা জাতির এ সূর্য সন্তানের নিথর দেহকে সম্মানের সাথে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতাম। ছবিতে অামাদের এমডি মহোদয়ের সহানূভুতিশীলের দালিলিক প্রমান দিলাম।


অাবার অাসি ৮০ ঊর্ধ বীর প্রতিক হামিদুল স্যারের চিকিৎসার দায়িত্বও অামাদের এমডির পরামর্শে সিইও নিয়েছেন।
দেশের সরকারির হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কি দায়িত্ব নেই, জাতির সূর্য সন্তানদের চিকিৎসা দেবার? তারা তো কোন মুক্তিযোদ্ধাদের বিনে পয়সায় চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন না।বিনে পয়সায় জাতির সূর্য সন্তানদের চিকিৎসা দেন না।অামরা তো বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে চেষ্টা করছি। অাপনারাও করুন।

অাওয়ামীলীগের নেতারা তো মুখে ফেনা তুলে ফেলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের কথা বলতে বলতে।অারে ভাই, অাপনারর দরিদ্র্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেন। তারপর কথা বলেন।

লেখক পরিচিতি: একজন সাংবাদিক ও চাকুরীজীবী।