ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার যৌথ সভায় ব্যাংকিং খাতে ধারাবাহিক লুটপাটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিপরীতে বেসরকারি ব্যাংকে নানা সুবিধা দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কার্যক্রম, তদারকি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আর্থিক খাতে বিশৃংখলা বাড়বে। সরকারি ব্যাংকগুলোকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।”

সভায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবির আন্দোলন নস্যাৎ করতে অন্যায়ভাবে গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সাদেকুর রহমান শামীম, কে.এম মিন্টুসহ ৭জন নেতাকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

বুধবার বেলা ১২টায় সিপিবি কার্যালয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ-এর বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক মোশরেফা মিশু, বাম মোর্চার নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সাইফুল হক, মোশারেফ হোসেন নান্নু, ফিরোজ আহমেদ, হামিদুল হক, সিপিবি’র সাজ্জাদ জহির চন্দন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ-এর জাহিদুল হক মিলু, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মানস নন্দী প্রমুখ।

সভায় বলা হয়, বেসরকারি ব্যাংককে দেওয়া টাকার লুটপাটের হিসাব না নিয়ে, উদ্ধার না করে নতুন করে সুবিধা দেওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার (সিআরআর) ১ শতাংশ কমানো যা এই খাতকেই দুর্বল করবে। সভায় আরও বলা হয়, সাধারণ জনগণের টাকার পরিচালিত এইসব ব্যাংক এ খেলাপী ঋণ এর পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূলধন সংকট চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ব্যাংক মালিকদের আবদার শোনা হচ্ছে। এমনকি এসব বিষয়ে লেখালেখি ও কথা বন্ধ করার কথাও বলা হচ্ছে। সভায় মালিকদের নয় জনস্বার্থে ব্যাংক পরিচালনা ও লুটপাট বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, একদিকে মালিকদের স্বার্থরক্ষা করা হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের আন্দোলন ঠেকাতে শ্রমিক নেতাদের ওপর জেল-জুলুম, নির্যাতন করা হচ্ছে। গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র নেতাদের গ্রেফতার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। জামিন এর আবেদনের সময় নতুন করে রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। শ্রমিক অঞ্চলে গ্রেফতার আতংক ছড়ানো হচ্ছে।