চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ

9

যুগবার্তা ডেস্কঃ চলতি অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে চলতি অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিলো ৭ দশমিক ২ শতাংশ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানানো হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৬১০ ডলার। এ হিসেবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৪২ ডলার। জাতীয় অর্থসূচকের এ উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

অন্যদিকে আজকের প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হচ্ছে “মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-কালিয়াকৈর-ধামরাই-নবীনগর (ঢুলিভিটা) মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ ” প্রকল্প। মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-কালিয়াকৈর-ধামরাই-নবীনগর (ঢুলিভিটা) মহাসড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। এটি গাজীপুর জেলা ও মানিকগঞ্জ জেলার শিল্পাঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। মহাসড়কটি জয়দেবপুর-মাওনা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কের ২৮তম কিলোমিটারে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা নামক স্থান থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের ২৮তম কিলোমিটারে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার অন্তর্গত ঢুলিভিটা নামক স্থানে শেষ হয়েছে। মোট ৫১ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার মহাসড়কটির পেভমেন্ট অধিকাংশই ৩ দশমিক ৭০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট। ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক এবং মহাসড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় এর পেভমেন্ট কমপক্ষে ৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে হওয়া জরুরী। গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা এলাকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে মহাসড়কটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এই মহাসড়কটি ব্যবহার করে বেশ কিছু এলাকার বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য খুব সহজেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয় যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ভুমিকা রাখছে। মহাসড়কটির বর্তমান অবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক ভলিয়্যুম এর কারণে মহাসড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কমানে উন্নীত করতে মেরামতসহ প্রশস্ত করা জরুরী। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সঙ্গে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি গাজীপুর, মানিকগঞ্জ এবং ঢাকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে প্রকল্প এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত আজকের একনেক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথাও জানান মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী।
আজকের একনেকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে ‘হাজারীবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মান্ডা ও বেগুনবাড়ী খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন বা পুন:খনন’ প্রকল্প। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমাতে বিদ্যমান খালের পাশাপাশি নতুন খাল খননের উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এ জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তয়নে খরচ ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময় পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রেখে ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দুর করার পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য সম্মত, পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই বসবাস নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সোয়া এক কিলোমিটার বাইশটেকি খালটি ৪০ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া ১৮০ মিটারের সাংবাদিক কলোনির খালটি ৩০ মিটার প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া অন্যান্য খালগুলো খনন ও পুন: খনন করা হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পভুক্ত খালগুলোতে জলপ্রবাহ নিশ্চিত হবে। ফলে প্রকল্পের ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় বৃষ্টির পানি, গৃহস্থালীর বর্জ্য পানি ইত্যাদি সহজেই খালের মাধ্যমে নির্ধারিত আউটফলে চলে যাবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। জলাবদ্ধতা দূর হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো টেকসই হবে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে।

মঙ্গলবারের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।