দেশের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই–মোস্তাফা জব্বার

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, গত ৯ বছরের বাংলাদেশ অগ্রগতির বাংলাদেশ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই দেশটিকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দেশে পরিণত করতে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং মালয়েশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদের চাইতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান। তিনি বলেন, মাত্র ৯ বছরে মাথা পিছু আয় ৫৫০ ডলার থেকে ১৬১০ ডলারে উপনীত হওয়া ও জাতীয় বাজেট ৪ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়া, মূল্যস্ফীতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা, প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ ভাগে উন্নীত করণ সহ অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাওয়ার এ বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল।

মন্ত্রী শনিবার বি.বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত তাঁকে প্রদত্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: নূরুল ইসলাম এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বকুল মোস্তাফা অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী বলেন, যে বাংলাদেশকে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংক টাকা দেয়নি, সেই বাংলাদেশ নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। তিনটি স্পেন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। দারিদ্র্যের হার শতকরা ৪০ভাগ থেকে ২২ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষার হার বিশ ভাগ থেকে ৭২ ভাগে উন্নীত করা হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের নারী শিক্ষার হার ছিল শতকরা এক ভাগ। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দেশে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নারীদের অবস্থান ৫৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান আমাদের চেয়ে ২৩ বছর আগে স্বাধীন হয়েছিল। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ আজ তথ্যপ্রযুক্তিতে পৃথিবীতে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই দেশ পৃথিবীর ৮০টি দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর প্রথম ডিজিটাল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ঘোষণা করেছিলেন। ইংল্যান্ড একবছর এবং ভারত ৬ বছর পর তাদের দেশকে ডিজিটাল দেশ তৈরির ঘোষণা দেয়। ২০০৮ সালে আইসিটি রপ্তানি আয় ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার, তা বর্তমানে এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ এখাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মূদ্রা আয় করবে। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সোনার মানুষ তৈরি করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রযুক্তি শিক্ষা সহজলভ্য করতে কম্পিউটারের ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ তথ্যপ্রযুক্তিখাতের বিকাশে যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন। মন্ত্রী অগ্রগতির অগ্রযাত্রা বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুকিত মন্ত্রী বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত একটি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃক মন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা মহাজোটের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মনিরুল হক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বকুল মোস্তাফাসহ স্থাানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। মন্ত্রী মহোদয় একই দিনে নবীনগরের পেয়ারাকান্দিতে তাঁর নানা-নানীর কবর জিয়ারত করেন।