নীতিমালা হওয়ায় ফাঁসলেন প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরা!

13

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারা দেশে বিশেষায়িত স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ৬২টি স্কুল চালু হয়েছে, যেখানে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাঁদের বেশির ভাগের বেতন-ভাতা আটকে গেছে। তিন বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় ওই শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার বিষয়টি সংসদীয় কমিটির দৃষ্টিতে আনেন ভুক্তভোগীরা। কমিটির পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান। তিনি জানান, আগে ওই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার কোনো নীতিমালা ছিল না। ২০১৫ সালে এসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। যে নীতিমালায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সে ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কিছু শর্তও যুক্ত করা হয়। আর ওই শর্তের কারণেই বেতন-ভাতা আটকে যায়।

কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ সরকারি প্রচলিত রীতিনীতির বাইরে গিয়ে একটি এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করা হতো। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এখন বেতন-ভাতা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ডাটাবেইস তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু ওই সব স্কুলে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষক-কর্মচারীর নীতিমালার শর্ত পূরণের যোগ্যতা নেই। কারণ অনেকে এসএসসি পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করলেও নীতিমালায় স্কুলের শিক্ষকতার চাকরির জন্য স্নাতক পাসের বিধান রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, নীতিমালা করার আগে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি স্কুলগুলোতে ঢুকে পড়েছেন। তবে তাঁদের অনেকেই আবার প্রতিবন্ধী। তাই বিষয়টি মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নীতিমালার ধারা শিথিল করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

কমিটি সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাক-শ্রবণ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সরকারি বেতন-ভাতা আটকে গেছে। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ওই স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষক বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। অথচ বিশেষ বিবেচনায় সরকার তাঁদের চাকরি দিয়েছিল। বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে যাওয়া এই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ায় সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার বল্লা ইউনিয়নের প্রজন্ম প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরা।-কালেরকন্ঠ