ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ নেতাসহ বহিষ্কার ২জন

48

অন্তু আহমেদ,জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই জনকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকরী পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বহিস্কৃতরা হলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফার্মেসি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব বিন বারী এবং সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান। এদেরকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তবে তাদেরকে কেন স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে না তার লিখিত জবাব আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জবি প্রশাসন।

সুত্র জানায়, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তরে ভূমি আইন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এলিন শেখের ভর্তির সময় জমা দেয়া ছবির সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির মিল না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সে প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির কথা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ মার্চ একই প্রক্রিয়ায় আরও তিন শিক্ষার্থী জালিয়াতির ঘটনা স্বীকার করেন।

১১মার্চ রেজিস্ট্রার দপ্তর আরও শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই বাছাইয়ের সময় আরিফ আলমাস আকাশ নামে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ছবির গরমিল পায়। এরপর তাকে প্রক্টর অফিসে এনে জিঞ্জাসাবাদ করা হলে সে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভর্তি হওয়ার কথা স্বীকার করে। এরপর নোমানকে ওই দিনই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় নোমান স্বীকার করেন, তার সিন্ডিকেটের বড়ভাই জবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিব বিন বারীর কাছে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আকাশকে জবিতে ভর্তি করা হয়।

এ অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আকিব বিন বারীকে বহিস্কার করে। ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এর মধ্যে আকিব বিন বারীও ছিলেন। তিনি জালিয়াত চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ ছিলো। এসবের পেক্ষিতে জবি প্রশানের অনুসন্ধানে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করলো প্রশাসন।