শুধু উন্নয়নশীলই নয় ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ

5

যুগবার্তা ডেস্কঃ গরিব দেশ হওয়ার অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। আর দারিদ্র দেখতে চাই না। স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে  স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে ৪৩ বছর পর আমরা  উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম। হয়তো আমাদের এখানে আসতে অন্যদেশের তুলনায় সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবো। শুধু উন্নয়নশীলই নয় উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। এর দুটি প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের জনসংখ্যার বোনাসকাল চলছে। যা পৃথিবীর কোন দেশেই নেই। কর্মক্ষম এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। এছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক করিডোর আমাদের জন্য আরও একটি সুযোগ। কেননা এশিয়ায় আগামীতে বিশ্বের সব চেয়ে উন্নত দেশ হবে চীন, তৃতীয় উন্নত দেশ ভারত এবং চতুর্থ উন্নত দেশ জাপান। তারা কেউই আমাদের ছাড়া একা উন্নতি করতে পারবেনা। চলতি বছরেই বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ তম দেশ হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে আছে ৪৩ তম অবস্থানে। স্বল্পোন্নত থেকে বের হয়ে যাওয়াতে আমাদের বড় কোন আর্থিক ক্ষতি হবে না। রপ্তানিও কমবে না। বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত আগের শর্তেই ঋণ পাওয়া যাবে। এছাড়া, বড় অংকের ঋণের জন্য দরকষাকষি করা যাবে। বুধবার দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নিয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরো বলেন, ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হবো। সেখানে আমরা বিশ্বের ‍উন্নত ২০টি অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে অবস্থান করবো। এই ক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দিয়েছি। গভীর সমুদ্র বন্দর করছি। গ্যাস, বিদ্যুতের উন্নয়ন করছি। ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করবো। আমাদের প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম। তবে আমরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি, তাদের বিনিয়োগ এখন বাড়তে থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের রফতানি শুধু পোশাক খাতের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। আইসিটি, ওষুধ, চামড়া এগুলো হবে আমাদের ভবিষ্যত রফতানির অন্যতম বড় খাত। এর মধ্যে আইসিটি হবে শীর্ষখাত।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলামসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা।