ব্রডব্যান্ডের দামে গ্রাহক পাচ্ছেন ন্যারোব্যান্ড

66

অন্তু আহমেদ, জবি প্রতিনিধি :ডেমরার বাসিন্দা মুস্তাফিক, একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) এক মেগাবিট পার সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করেন। এর জন্য তাকে প্রতিমাসে গুনতে হয় ৮০০ টাকা যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে জানান এই গ্রাহক। গ্রাহক অভিযোগের সুরে জানান,”মাত্র এক এমবিপিএসের জন্য এত টাকা দিচ্ছি অথচ সেবা খুবই নিম্নমানের। যে গতির কথা বলা হয়েছে, তার থেকে অনেক কম পাচ্ছি।”
রাজধানীর নাখালপাড়ার আরেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক আমিন রবিন জানান, ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি স্থানীয় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ এমবিপিএস সংযোগ ব্যবহার করেন। রাজধানীর অন্য এলাকার তুলনায় এজন্য তাকে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। কিন্তু সে অনুপাতে ইন্টারনেটের গতি কিংবা সেবা, কোনোটিই পান না বলে জানান তিনি।

আমিন বলেন, “কাজের জন্যই আমার উচ্চগতির এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে। কারণ বিদেশে থাকা ক্লায়েন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। কিন্তু হুটহাট করেই ইন্টারনেট চলে যায়। একদিনের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়বার ইন্টারনেট ছিল না, এমন অভিজ্ঞতাও আছে।” তার বক্তব্য আরও জানা যায় যে,অনেক ক্ষেত্রেই বড় কোনো ফাইল আপলোড কিংবা ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও তাকে ঝামেলায় পড়তে হয়।তিনি আরো জানান, বিকল্প ভালো কোনো আইএসপি না পাওয়ার কারণে সংযোগ পরিবর্তনও করতে পারছেন না তিনি।

শুধু এ দুজন নয়, এ ধরনের অভিযোগ আরো অনেক ব্যবহারকারীরই। একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে গতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়, প্রথমদিকে তেমন গতি পেলেও কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। অনেক গ্রাহক ক্রয়কৃত গতির অর্ধেকও পান না বলে জানিয়েছেন।

এর বাইরে আছে যখন তখন ইন্টারনেট চলে যাওয়ার মতো সমস্যাও। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কিংবা বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেটও থাকে না। কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এর উল্টো ঘটনা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার। এর মধ্যে আইএসপি এবং পিএসটিএন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার যার মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ৫ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) নির্ধারণ করে দেয় সরকার যা এর আগে ছিল এক এমবিপিএস। এর ফলে ৫ এমবিপিএসের কম গতির ইন্টারনেটকে বলা হবে ‘ন্যারোব্যান্ড’ ইন্টারনেট। সে অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড বলা হলেও গ্রাহকরা পাচ্ছেন ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট।