প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দ্বিমত জানিয়ে জাসদ আম্বিয়া-প্রধানের বিবৃতি

15

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি জনাব শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল হক প্রধান এমপি শনিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পূর্বে ও পরে জনাব সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক আলোচনা সভায় যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ”মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস যে ধারাবাহিক প্রয়াস চালিয়েছে তার ফলশ্রুতিতেই ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়ার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বেতার বক্তৃতার সাথে সাথেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র জনতা রাজপথে নেমে এসে স্বাধীনতার রণহুংকার তোলে। ১৯৭১ সালের ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসের পরিচালনায় স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচন, রাজপথে প্রকাশ্য সামরিক কুচকাওয়াজ ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে জনগণর ইস্পাতসম ঐক্য গড়ে তোলে। যার ফলে ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরু মুহুর্ত থেকেই দ্বিধাহীন চিত্তে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ’যার যা আছে তাই নিয়ে’ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
”১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে দাবি জানানো ও ভাষণের পর তা নিয়ে কথা বলা দেশবাসী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রযোদ্ধা ছাত্র-তরুণদের দুর্বার আকাঙ্খারই প্রতিফলন মাত্র। আর ছাত্র-তরুণদের আকাঙ্খাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময়ই সযতেœ লালন করেছেন। ষাটের দশক থেকে বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াস সংগঠকদের মধ্যে এ ধরণের বহু কথাবার্তা, অনুযোগ, তর্ক-বিতর্ক ঘটেছে – যা কখনো বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াসের স¤পর্কে ন্যূনতম চিড় ধরায় নি। এগুলো কখনই ষড়যন্ত্র ছিল না, ছিল স্বাধীনতার দুর্বার আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশ। এটা একান্তই বঙ্গবন্ধু ও নিউক্লিয়াস বিশেষ করে জনাব সিরাজুল আলম খানের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ব্যাপার। নিউক্লিয়াস গঠন থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত এ বন্ধন ছিল অটুট। স্বাধীনতার পরে মত ও পথের ভিন্নতা টেনে এনে সে সম্পর্ককে বিতর্কিত ও কটাক্ষ করা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকেই কেবল অসম্মানিত করে না, ইতিহাসকেও অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
”তবে এটা অত্যন্ত আশার বিষয় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস, নিউক্লিয়াসের সথে বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সম্পর্ক ও নিউক্লিয়াসের প্রাণপুরুষ জনাব সিরাজুল আলম খানের সাথে বঙ্গবন্ধুর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিষয়ে আলোকপাত করছেন, যদিও তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে। আমরা আশা করি ইতিহাসের অজানা অধ্যায়গুলো উন্মাচন করতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসে সবার ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি দেবেন। মুক্তিযুদ্ধে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা, স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা, প্রবাসী সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা, বাঙ্গালী সামরিক বাহিনী সদস্যদের ভূমিকা, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা, বাঙ্গালী কূটনীতিকদের ভূমিকা সহ সকল পক্ষের ভূমিকা মিলিয়েই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আর নিউক্লিয়াস ছিল ৬ দফা থেকে স্বাধীনতার ১ দফা আন্দোলনে পরিণত করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। নিউক্লিয়াস তথা সিরাজুল আলম খানের ভূমিকাকে খাটো করলে তা জাতির জন্ম ইতিহাসকেই খন্ডিত ও বিপথগামী করবে মাত্র।”