গ্যাসের দাম বাড়বে, তেল এখন নয়

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় আগামী এপ্রিল থেকে যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হচ্ছে, তা দেশে গ্যাসের দাম বাড়াবে। শুরুতে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে পাওয়া যাবে। তাতে জ্বালানির ঘাটতি কমলেও গ্যাসের দাম বাড়বে। কতটা বাড়বে, তা চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি কাজ করছে।

ছয় মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ জন্য পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এখন প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। তবে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে এখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা সরকারের নেই বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে জ্বালানিসচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এলএনজি এলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। এখনই প্রতি ইউনিট (এক হাজার ঘনফুট) গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় নয় টাকার বেশি। ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আসতে শুরু করলে ব্যয় পড়বে প্রায় ১৪ টাকা। পরে আরও এলএনজি এলে দাম আরও বাড়বে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিটির কাছে এ ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।

তেলের দামের প্রসঙ্গে সচিব বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিপিসির লোকসানের বিষয়টি সরকার অবগত।

এলএনজি আমদানি শুরুর পর গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়বে শিল্পে, যা প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান দাম ৭ টাকা ৭৬ পয়সার স্থলে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা হতে পারে। এরপর বাড়বে সিএনজিতে—প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান দাম ৩২ টাকা থেকে বেড়ে এটা হতে পারে ৫১ টাকা ৭০ পয়সা। বাণিজ্যিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান দাম ১৭ টাকা ৪ পয়সার স্থলে ৩৫ টাকা হতে পারে।

আবাসিক খাতে এক চুলার গ্রাহকের মাসিক বিল হবে ৭৫০ থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার টাকা, আর দুই চুলার গ্রাহকের বিল ৮০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০ টাকা হতে পারে। তবে এই খাতে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান দাম ৩ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৯৯ পয়সা; ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘনমিটারের দাম ৯ টাকা ৬২ পয়সার স্থলে ১৪ টাকা ৯৮ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে। দামের এই ঊর্ধ্বগতি ধরে নিয়েই সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, একদিকে এলএনজি আকারে গ্যাসের আমদানি যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় গ্রিডে দেশের নিজস্ব গ্যাসের সরবরাহ ক্রমাগতভাবে কমবে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করবে।

সিএনজি স্টেশনের মালিকেরা বলছেন, এলএনজি আমদানির পর প্রতি ঘনমিটারের যে দাম পড়বে বলে সরকার বলছে, তার চেয়ে বেশি দামেই এখন সিএনজি স্টেশনে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে (৩২ টাকা)। সে ক্ষেত্রে এই দাম আরও বাড়ানো অযৌক্তিক।

তবে সরকার বলছে, বেশি দামের গ্যাসের বিকল্প হচ্ছে ‘নো গ্যাস’। কেউ চাইলে এর যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। সরকারের হিসাবে প্রতিদিন ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে শিল্প, বিদ্যুৎ, সার ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ পাবে। এতে মোট জাতীয় উৎপাদনে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে, কর্মসংস্থান হবে প্রায় ১০ লাখ।

বিষয়টি সম্পর্কে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, দেশের স্থলভাগে ও সমুদ্রসীমায় জ্বালানির অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানো হলে এত এলএনজি আমদানির দরকার হতো না। আমদানির ফলে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে অর্থনীতি ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।-প্রথম আলো