অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব জেলা-উপজেলায় আবাসিক ভবন নির্মাণ হবে

16

যুগবার্তা ডেস্কঃ অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা সকলেই বয়োজ্যেষ্ঠ এবং উপার্জনক্ষম না হওয়ায় তাদের পক্ষে ভাড়া খরিদ বা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় তৈরি হবে বহুতল আবাসিক ভবন। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারি আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মধ্যদিয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি জেলা ও উপজেলায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আজকের একনেকে। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং নির্মাণ করা হবে ৮ হাজারটি ফ্ল্যাট। দুই ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৪টি এবং চার ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৮টি অর্থাৎ মোট ৫৩২টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিট বা ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৯৮২ বর্গফুট। এতে ৩টি বেড রুম, ১টি ড্রইং কাম ডাইনিং রুম, ২টি বাথরুমসহ বারান্দা। তবে যেসব জেলা বা উপজেলায় ৩ বা ততোধিক ভবনের প্রয়োজন হবে সেখানে আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ করে অন্যান্য সুবিধাদি যেমন- অভ্যন্তরীণ সড়ক, লাইটিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মূল খাস জমির উপর ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। তবে যেসব উপজেলায় খাস জমি পাওয়া না যায় সখানে জমি অধিগ্রহণে করা হবে। রাজধনীর শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত আজ বৃহস্পতিবার একনেক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা জানান মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজকের একনেরে একনেকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প হলো স্থানীয় সরকার বিভাগের “জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ” প্রকল্প। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনজীবন ও সম্পদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ তথা প্রকল্প এলাকায় গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরী। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর সমীক্ষা জরুরী। এ প্রেক্ষিতে, গ্রামীণ ও নগর অঞ্চলে জনগণের জীবন মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হতে সুরক্ষার প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার, জিসিএফ এবং কেএফডাবিøউ অর্থায়নে মোট ৬৮৮.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি, ২০১৮ হতে ডিসেম্বর, ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজকের একনেকের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পঃ
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নতুন ১২-তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প- বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টে মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ ৯৩ জন বিচারপতি রয়েছেন। বিচারপতিগণের বেশীরভাগেরই নিজস্ব চেম্বার নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি চেম্বারে দুই জন বিচারপতি শেয়ার করছেন। বর্তমানে বিচারকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৯৩টি এজলাসের বিপরীতে ৬২টি এজলাস থাকায় বিচার কার্য পরিচালনা ব্যহত হচ্ছে। অতিরিক্ত মামলাজট নিস্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আরো অধিক সংখ্যক বিচারপতি প্রয়োজন হবে এবং আবশ্যিকভাবে আরো অধিক সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে। ফলশ্রুতিতে বর্তমান চেম্বার ও এজলাস স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট সংকট আরো চরম আকার ধারণ করবে।
উপর্যুক্ত সংকট মোকাবেলায় সুপ্রীম কোর্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করার নিমিত্ত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভবটি নির্মাণ করা হলে অতিরিক্ত ৪০টি এজলাস এর সংস্থান হবে।

বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প- সিলেট জেলার সিলেট-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কটি সরাসরি সিলেট মেট্রোপলিটন শহর ও বিমানবন্দর সড়কের সাথে সংযুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সাথে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী সংযুক্ত, যেখানে দেশের প্রায় ৭০% পাথর আহরিত হয়। উক্ত সড়কে পাথরবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে। তাছাড়া, ভোলাগঞ্জ ল্যান্ডপোর্টের মাধ্যমে ভারত থেকে লাইমস্টোন আমদানী করা হয়। বর্তমানে সড়কটিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ মালবাহী ট্রাক যাতায়াত করে থাকে যার সংখ্যা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে মূল প্রকল্পটি ৪৪১.৫৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মার্চ ২০১৫ হতে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য গত ০৭/০৪/২০১৫ তারিখে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্ধিত ট্রাফিক চাহিদা পূরণকল্পে সড়কটিকে জাতীয় মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ; প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন; প্রকল্পের আওতায় দু’টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে- যাতে টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী অবকাঠামো এবং সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।

আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।