পোশাক-পরিচ্ছদে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

15

দিলাওয়ার আহমদ কাসেমি: লেবাস বা পোশাক মানুষের জন্য পানাহারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? পানাহারের ক্ষেত্রে অনেক সময় আপনি বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরতে পারবেন, না খেয়ে বেশ কয়েকদিন থাকতে পারবেন? কিন্তুকখনো পোশাকবিহীন আবস্থায় চলাফেরা করতে পারা যায় না। আর পোশাক-পরিচ্ছদ শুধু মুসলিমদের জন্য নয় বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রয়োজন? এবং মানুষের প্রকৃতিতেও আছে লজ্জাস্থান ঢাকা। কারণ আল্লাহ মানুষকে লজ্জাশরম দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; যা হচ্ছে মানুষের প্রকৃতি?

দুঃখজনক হলেও সত্য, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জা বিষয়ে সমাজে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের বড় মন্দপ্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে? যখন যে ফ্যাশন বের করা হচ্ছে তখন নির্বিচারে অনুকরণকেই ‘আধুনিকতা’ মনে করা হচ্ছে? এ ব্যাপারে অমুসলিম লোকদের রীতি-নীতিই অধিক অনুকরণীয় করতে দেখা যায়? বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শরীয়তের চোখে অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিন্দনীয় কাজ?

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে, সে তাদের দলভুক্ত?’ (সুনানে আবু দাউদ: ২/৫৫৯)

পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে কিছু মূলনীতি। ১. লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা।

পোশাক এমন হতে হবে যা পুরোপুরি লজ্জাস্থান আবৃত করে? পুরুষের লজ্জাস্থান হচ্ছে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত? আর মহিলাদের বিশেষ প্রয়োজনে প্রকাশ অত্যাবশ্যক অঙ্গ ছাড়া পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখা তথা নরীর পুরো শরীর সতর বা লজ্জাস্থান? পোশাকের প্রধান উদ্যেশ্য হলো লজ্জাস্থান আবৃত করা?

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে বনি আদম! আমি তোমাদের জন্য অবতির্ণ করেছে পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য প্রধান করে?’ (সুরা আরাফ: ২৬)

২. বিধর্মীদের পোশাক না হওয়া? বিধর্মীদের অনুকরণে পোশাক পরিধান করা অবৈধ? তথা ইহুদি, খৃষ্টান ও পুরোহিতদের পোশাক এবং হিন্দুদের ধুতি-লেংটি ও মাজারপূজারীদের লালশালু এবং শিয়াদের অনুকরণে পূর্ণ কালো পোশাক ইত্যাদি?

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘নিশ্চয় এটি কাফেরদের পোশাক? তোমারা তা পরিধান করো না? ‘ (সহিহ মুসলিম: ১৪৪)

অন্য এক হাদিসে এসেছে’ যে ব্যক্তি তাদের পোশাক পরবে সে আমার দলভুক্ত নয়?’ (তাবারানি ৩৯২১)

৩. টাখনুর নিচে পোশাক না পরা? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘টাখনুর গিরার নিচে কাপড় পরিধান থেকে বিরত থাকো? কেননা এটা অহংকারবশত হয়ে থাকে? আর আল্লাহ তায়ালা অহংকারীদের পছন্দ করেন না? (সুনানে আবু দাউদ: ৫৬৪)

৪. নারীর পোশাক পুরুষের সাদৃশ্য হয়ে যাবে না? এবং পুরুষের পোষাকও যেন নারীর সাদৃশ্য না হয়? ৫. পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় বৈধ নয়? লেবাস-পোশাকের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো নারীর জন্য সব রঙের পোশাক পরা জায়েজ বা বৈধ? তবে কুসুম-লাল, হলুদ, জাফরান ও গোলাপি রং নিষিদ্ধ?-আমাদের সময়.কম