ওয়াসার পানি জারে ভরে বিক্রির ধুম

25

যুগবার্তা ডেস্কঃ এক গ্লাস পানির দাম এক টাকা। রাজধানীর সর্বত্রই বিশেষ করে খাবার হোটেল ও ফুটপাতের দোকানে এক গ্লাস পানি এক টাকায় বিক্রি হয়। ফিল্টার করা বিশুদ্ধ পানি মনে করে নগরবাসী এই পানি পান করছেন। ২০ লিটারের পানির জারে নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পানি ফিল্টারিং করা হয়। অথচ এই পানি জারজাত করা হচ্ছে সরাসরি ওয়াসার লাইন থেকে। এমনই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল যাত্রাবাড়ীতে পানি জাতকরণ ছয়টি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— বিক্রমপুর ড্রিংকিং ওয়াটারের নাদিম ও জহিরুল, ইউনিক ড্রিংকিং ওয়াটারের সিদ্দিকুর, মানিক, সাহাবুদ্দিন টুটুল, শরিফ, কাশেম ও রোমান, আল হোসাইন ফুড বেভারেজের জহিরুল, রিদম পিওর ড্রিংকিং ওয়াটারের শাহজাহান, সেইফ ড্রিংকিং ওয়াটারের জুয়েল ও বিপ্লব ড্রিংকিং ওয়াটারের বিপ্লব। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিপুলসংখ্যক পানির জার জব্দ করে নষ্ট করে দিয়েছে।

র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম বলেন, ইউনিক ড্রিংকিং ওয়াটার নামে ২০১৩ সালে বিএসটিআই’র লাইসেন্স নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালে এর মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। পানির কারখানাটিতে প্রবেশ করতেই ল্যাবরেটরি ও পাশেই কেমিস্টদের পোশাক পরিবর্তনের রুম রয়েছে। ভেতরে আধুনিক ফিল্টার মেশিন থাকলেও সেসব মেশিনে ফিল্টারের পরিবর্তে বালু পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর যেসব কেমিক্যাল রয়েছে সেসবেরও মেয়াদোত্তীর্ণ। সায়দাবাদ এলাকায় আরেকটি কারখানায় অভিযানকালে দেখা যায়, বন্ধু হোটেল নামে একটি হোটেলে ব্যবসার আড়ালে ফিল্টারের পানির ব্যবসা করে আসছিল। এই পানি কারখানার মালিক ওয়াসার পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ চুরি করে ওয়াসার পানি সরাসরি জারে ভরে বিক্রি করে আসছিলেন। বন্ধু হোটেলকে দেড় বছর আগে একই অপরাধে দণ্ড দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সে আবার একই কাজ শুরু করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জার বা বোতলজাত পানি বিক্রি প্রতিষ্ঠানের ২০০টি নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই। সেসব পানির সবকটিতে অতিমাত্রায় ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে আমাদের অভিযান চলমান।-ইত্তেফাক